• বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৫৮ অপরাহ্ন

মেয়েদের এশিয়ান কাপে কম গোল খাওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের

প্রভাত রিপোর্ট / ৩ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রভাত স্পোর্টস : এবারের নারী ফুটবল লিগে ১০ ম্যাচের ৯টিতে খেলে একটি গোলও খাননি রাজশাহী স্টারসের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা। এটা তাই মনে হতেই পারে, গোলপোস্টের নিচে রুপনা চাকমার মতো বিশ্বস্ত হাত থাকতে কিসের আবার চ্যালেঞ্জ! তবে এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি পর্বে এই রুপনার জালেই গোলবন্যা দেখে চ্যালেঞ্জটা অস্বীকার করারও উপায় নেই। শেষ চারটি প্রীতি ম্যাচের একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি বাংলাদেশ নারী দল, হজম করেছে ১১ গোল।
অন্যদিকে আগামী ১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় শুরু এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের গ্রুপে থাকা উত্তর কোরিয়া, চীন ও উজবেকিস্তান গোল–উৎসব করে সেরেছে তাদের প্রস্তুতি। এশিয়ান কাপও নিয়মিত গোল–উৎসবই দেখে আসছে তাদের।
২০২২ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ আসরের গ্রুপ পর্বে চীন দুই ম্যাচে ১১ গোল করে হজম করেনি একটি গোলও। এবার গ্রপ পর্বে বাংলাদেশ দলের অন্য দুই প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান গত আসরে না খেললেও চীনের মতো উত্তর কোরিয়ার জন্যও এশিয়ান কাপ মানেই গোল–উৎসব।
এশিয়ান কাপে এখন পর্যন্ত ৭৫ ম্যাচ খেলা চীন গোল করেছে ৩৬৭টি, ৫৩ ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার গোল ২৪১টি। উজবেকিস্তান অবশ্য পাঁচ আসরে ১৬ ম্যাচে গোল দিয়েছে ১৫টি, হজম করেছে ৬৫টি। তবে এবারের প্রস্তুতি পর্বে চীন, কোরিয়ার মতো প্রতিপক্ষকে বড় ব্যবধানে হারানোর স্বাদ নিয়েছে তারাও। অন্যদিকে বাফুফের সদ্য সমাপ্ত লিগে গোলবন্যা দেখা গেলেও আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েরা বরাবরই গোলখরায় ভোগেন। মেয়েদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশ নারী দল এখন পর্যন্ত ২৪ দেশের বিপক্ষে ৭৫টি ম্যাচ খেলে দিয়েছে ১৪৯ গোল, কাকতালীয়ভাবে হজমও করেছে ১৪৯টি গোলই। এশিয়ান কাপে প্রতিপক্ষ দলগুলোর গোল করার ক্ষমতা দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের। গোল আটকানোটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। চীন–উত্তর কোরিয়ার মতো দলের বিপক্ষে কত কম গোল খাওয়া যায়, টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ নারী দলের মূল চেষ্টা থাকবে সেটাই।
চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে এর আগে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকাটাও একটা সমস্যা। দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শিউলি আজিম বলেন, ‘আমরা আগে কখনো চীন বা কোরিয়া জাতীয় দলের বিপক্ষে খেলিনি। তাদের আক্রমণভাগ সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে উত্তর কোরিয়াকে পেয়েছি একবার। তাদের সঙ্গে জেতার নিশ্চয়তা দিতে পারব না, তবে অঘটন ঘটানোর চেষ্টা করব।’
ধারেভারে অবশ্য প্রতিপক্ষ দলগুলোর আশপাশেও নেই বাংলাদেশ। র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের (১১২তম) চেয়ে ৯৫ ধাপ এগিয়ে চীন (১৭তম), উত্তর কোরিয়া (নবম) এগিয়ে ১০৩ ধাপ, উজবেকিস্তান (৪৯তম) ৬৩ ধাপ।
গত জুলাইয়ে এশিয়ান কাপ নিশ্চিত হওয়ার পর বাফুফের নারী উইং প্রধান মাহফুজা আক্তার জাপানে ক্যাম্প করার কথা বললেও সেটি হয়নি। অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে ফিলিপাইনে ক্যাম্প করা এবং প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু বাফুফে ব্যবস্থা করতে পারেনি সেগুলোরও।
অভিজ্ঞতা আর অর্জনেও বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের পার্থক্যটা যোজন যোজন। এই প্রথম মেয়েদের এশিয়ান কাপে খেলবে বাংলাদেশ। ১ মার্চ শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে ৩ মার্চ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীন। দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ মার্চ তিনবারের শিরোপাজয়ী উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আরেক প্রতিপক্ষ পাঁচবার এশিয়ান কাপ খেলা উজবেকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ ৯ মার্চ।
তার ওপর এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার প্রস্তুতি হিসেবে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলা চার ম্যাচে বাংলাদেশ দলের কোচ পিটার বাটলারের রক্ষণকৌশল নিয়েও আছে প্রশ্ন। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ার মতো দলের বিপক্ষে হাইলাইন ডিফেন্স খেলিয়েছেন কোচ। এশিয়ান কাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে সেই কৌশলের পুনরাবৃত্তি ঠিক হবে কি না, জানতে চাইলে শিউলি বিষয়টা কোচের ওপরই ছেড়ে দিলেন, ‘এটা পুরোপুরি কোচের বিষয়। তিনি যেভাবে বলবেন, সেভাবেই খেলতে হবে।’
আরেক ডিফেন্ডার আফঈদা খন্দকার অবশ্য রক্ষণ নিয়ে ভাবতেই চান না। শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করার প্রতীজ্ঞা তাঁর, ‘চীন, কোরিয়া খুবই ভালো দল, এশিয়ার মধ্যে সেরা। রক্ষণভাগ নিয়ে না ভেবে ভালো খেলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা তাদের সঙ্গে অন্তত লড়াইটা করতে চাই।’ সেটা যে সহজ হবে না, তা মানছেন কোচ বাটলার। সে জন্য চীন–কোরিয়াকে মাথায় রেখেই টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিতে রক্ষণে বাড়তি মনোযোগ দিতে চান তিনি, ‘চীন ও কোরিয়ার বিপক্ষে এমন চ্যালেঞ্জ থাকবেই। উজবেকিস্তানও ভালো দল। শেষ কয়েকটা দিন আমরা রক্ষণভাগ আরেকটু গোছানোর চেষ্টা করব।’ তবে কোচের অতৃপ্তি আছে ম্যাচ প্রস্তুতি নিয়ে, ‘ওরা লিগের ম্যাচ খেললেও সেটা খুব বেশি প্রভাব ফেলছে না। কারণ, লিগে খুব একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না।’
গত জুলাইয়ে এশিয়ান কাপ নিশ্চিত হওয়ার পর বাফুফের নারী উইং প্রধান মাহফুজা আক্তার জাপানে ক্যাম্প করার কথা বললেও সেটি হয়নি। অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে ফিলিপাইনে ক্যাম্প করা এবং প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু বাফুফে ব্যবস্থা করতে পারেনি সেগুলোরও। তবে অক্টোবরে থাইল্যান্ডে দুটি প্রীতি ম্যাচ এবং ডিসেম্বরে ঢাকায় মালয়েশিয়া ও আজারবাইজানকে নিয়ে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা সিডনির স্থানীয় এক দলের সঙ্গে।
এশিয়ান কাপের আগে মেয়েদের মূল প্রস্তুতি পর্ব ধরতে হচ্ছে তাই ১৩ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়া লিগটাকেই। কিন্তু ৫৫ ম্যাচে ৪১৫ গোলের একপেশে লিগ খেলে প্রস্তুতি কেমন হতে পারে, তা তো বোঝাই যায়।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও