• রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম

ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ, স্বস্তি আসছে না বিশ্ববাণিজ্যে

প্রভাত রিপোর্ট / ২ বার
আপডেট : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রভাত অর্থনীতি: যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের এক রায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি বড় ধাক্কা খেয়েছে ঠিক, কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক স্বস্তি আসছে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা কিছু বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনায় বাণিজ্যনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে এবং ট্রাম্প ভিন্ন উপায়ে আবারও শুল্ক আরোপের চেষ্টা করতে পারেন। খবর রয়টার্সের
রায়ের পরপরই ট্রাম্প ১৫০ দিনের জন্য সাময়িকভাবে ১০ শতাংশ হারে নতুন বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এরপর গতকাল শনিবারই তিনি ঘোষণা করেন, শুল্ক ১০ শতাংশ নয়; বরং ১৫ শতাংশ করা হলো। শনিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। এই যে এক দিনের মধ্যেই শুল্কহার তিনি বাড়িয়ে দিলেন, বিষয়টি তাঁর স্বভাবসিদ্ধ। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে, বিশ্ববাণিজ্যে আরও অনিশ্চয়তা আসছে।
ট্রাম্প পোস্টে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বৈশ্বিক শুল্কহার অবিলম্বে ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশে উন্নীত করেছেন তিনি। বিশ্বের অনেক দেশ বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়ে আসছে (যতক্ষণ না তিনি এসেছেন)। এখন থেকে আইনসম্মত ও পরীক্ষিত উপায়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক নেয়া হবে। অর্থাৎ শুল্কযুদ্ধ থেকে তিনি সরে আসছেন না।
অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পরপর ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আগের শুল্ক থেকে আদায় করা অর্থ ফেরত দেয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। যেমন নতুন করে কী ধরনের শুল্ক আসতে পারে, বাতিল হওয়া শুল্কের অর্থ ফেরত দিতে হবে কি না, কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বিভিন্ন দেশের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না—এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো নেই।
ইউরোপীয় নীতি বিশ্লেষক ভার্গ ফোকম্যানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ শুল্কনীতি কী হবে, তা নিয়ে বিশ্ববাণিজ্যে আবারও অনিশ্চিত সময় শুরু হতে পারে। অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, আদালতের রায়ে কাঠামো ভেঙে গেলেও শুল্কনীতির পুরোপুরি অবসান হয়নি; বরং অন্যভাবে তা অব্যাহত থাকতে পারে।
এই রায় মূলত নির্দিষ্ট এক আইনের সাপেক্ষে দেয়া। সেটা হলো, ট্রাম্প জাতীয় জরুরি ক্ষমতার আইনের আওতায় যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, সেই শুল্ক। ধারণা করা হচ্ছে, এসব শুল্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব পেয়েছে। যদিও এই শুল্কের ভার বহন করতে হয়েছে মূলত মার্কিন কোম্পানি ও জনগণকেই।
নীতি বিশ্লেষণ সংস্থা গ্লোবাল ট্রেড অ্যালার্টের হিসাবে, রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গড় বাণিজ্য শুল্কহার প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে—১৫ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। বিশেষ করে চীন, ব্রাজিল ও ভারতের মতো উচ্চ শুল্কের মুখে থাকা দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই হ্রাসের হার আরও বেশি হতে পারে, যদিও তাদের ক্ষেত্রে শুল্কের হার তুলনামূলক বেশিই থাকবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তি করা দেশগুলো এখন নতুন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। কেউ কেউ মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আদালতের রায়ে চুক্তি পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাদের জন্য।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বাণিজ্য কমিটির প্রধান বার্নড লাঙ্গে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তি দ্রুত অনুমোদনের বিষয়টি সামনে আসতে পারে, তবে আদালতের রায়ের প্রভাব আগে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সংবাদে বলা হয়েছে, সব দেশ হয়তো চুক্তি বাতিল করতে চাইবে না। অনেক দেশ ইতিমধ্যে ট্রাম্পের শুল্কনীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শুরু করেছে। এমনকি আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৈশ্বিক অর্থনীতি এখনো তুলনামূলক স্থিতিশীল; এবং আগামী বছর প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক থাকতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে দুটি সম্ভাবনা আছে—কিছু দেশ নতুন করে দর-কষাকষির চেষ্টা করবে, আবার কেউ কেউ অনিশ্চয়তা এড়াতে বিদ্যমান চুক্তিই বহাল রাখতে চাইবে।
অন্যদিকে অর্থনৈতিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ব্রাসেলসভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ব্রুয়েগেলের গবেষক নিকালস পয়টার্স বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যচুক্তি ঘিরে এখনো বড় ধরনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আছে। তাঁর মতে, আলোচনায় ইউরোপ অনেকটাই ছাড় দিয়েছে এবং শেষমেশ দেখা যাচ্ছে, তারা তুলনামূলকভাবে কম সুবিধা পেয়েছে, জনমনে এমন ধারণাও তৈরি হয়েছে।
ভবিষ্যতে এই চুক্তি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে নিকালসের মত, যদিও বিষয়টি নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও