• রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম

নাটোরে ফুটবল খেলা নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা, থানায় অভিযোগ

প্রভাত রিপোর্ট / ৫৬ বার
আপডেট : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

খন্দকার মাহাবুবুর রহমান : নাটোর: নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের সাধনগর গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে এক বর্বরোচিত ও হৃদয়বিদারক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। ফুটবল খেলার সময় সজোরে আসা বলের আঘাতে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যুর পর, এর প্রতিবাদ করায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হামলায় একই পরিবারের নারীসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সাধনগর গ্রামের মো. মনজুর আলমের বাড়ির সামনের খোলা মাঠে স্থানীয় কিছু যুবক ফুটবল খেলছিল। খেলা চলাকালীন একটি ফুটবল আকস্মিকভাবে মনজুর আলমের বাড়ির টিনের বেড়া ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং তার আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূ মোছাঃ জেবা রায়সার (২০) পেটে সজোরে আঘাত করে।
এই ঘটনার পরদিন থেকেই জেবা রায়সার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং রক্তপাত শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার গর্ভস্থ সন্তানকে মৃত ঘোষণা করেন। একটি অসতর্ক ফুটবল খেলার কারণে একটি পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অনাগত প্রাণ অকালেই ঝরে যায়।
সন্তান হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই গত ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পুনরায় ওই মাঠে ফুটবল খেলা শুরু হয়। আবারও ফুটবলটি মনজুর আলমের বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে তার স্ত্রী মর্জিনা বেগমকে (৩৮) আঘাত করে। বারবার ফুটবল খেলতে নিষেধ করায় ১নং বিবাদী বাবলু সরদার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং মর্জিনা বেগমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।
একপর্যায়ে বাবলু ও তার সহযোগীরা উত্তেজিত হয়ে মর্জিনা বেগমের ওপর চড়াও হয় এবং তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। স্ত্রীকে বাঁচাতে বৃদ্ধ শ্বশুর মোজাম্মেল হক (৬৪) এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকেও রেহাই দেয়নি; তার চোখে-মুখে আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়। এমনকি শাশুড়ি রেনুফা বেগম মিনু (৫৫) বাধা দিতে এলে তাকেও লাথি মেরে জখম করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনায় অভিযুক্তদের স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে এলাকায় আলোচনা চলছে। এই বিষয়ে নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব নাসিম উদ্দিন নাসিম কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “তৃণমূল পর্যায়ের যদি কোনো নেতাকর্মী দলের নীতি ও আদর্শ ভঙ্গ করে কোনো অপরাধে জড়ায়, তবে দল তার দায়ভার নেবে না। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে সাধনগর ও বিরকুৎসা রেলস্টেশন সংলগ্ন লাহেরীপাড়া মাঠ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম জানান, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্তরা মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে অভিযোগ করেছেন মো. মনজুর আলম।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও