আজ
|| ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ৪ঠা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
পানিতে চেতনানাশক মিশিয়ে গৃহকর্ত্রীকে হত্যা ও চুরি, গ্রেফতার গৃহকর্মী
প্রকাশের তারিখঃ ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রভাত রিপোর্ট: রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় এলাকায় গৃহকর্ত্রীকে হত্যা ও স্বর্ণালংকার চুরি ঘটনায় রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত মূল আসামি গৃহকর্মী বিলকিস বেগম (৪০) ও চোরাই স্বর্ণ ক্রেতা জুয়েলারি দোকান মালিক রবিউল আউয়ালকে (৫৩) গ্রেফতার করা হয়েছে। পিবিআই বলছে, গৃহকর্মী বিলকিস খাবার পানির সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে বৃদ্ধ দম্পতিকে অচেতন করেন। অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগে গৃহকর্ত্রী আয়শা আক্তারের মৃত্যু হয়। পরে বাসা থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান আসামি বিলকিস। রবিবার (২২ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁও ৬০ ফিট এলাকায় অবস্থিত ঢাকা মেট্রো উত্তরের পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত ‘উত্তরায় গৃহকর্মী কর্তৃক আয়শা হত্যার রহস্য উদঘাটন’ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের এডিশনাল ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান এসব তথ্য জানান।
মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাতনামা এক নারী মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ নেন। কেয়ারটেকারের কাছে নিজের নাম ‘মমতাজ’ এবং বাসার সদস্যদের কাছে ‘মারুফা’ বলে পরিচয় দেন তিনি। এনআইডি ও ঠিকানা পরে দেবেন বলে জানান। এরপর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে বাসার মালিকের স্ত্রী-সন্তান বেড়াতে গেলে বাড়িতে একমাত্র বৃদ্ধ দম্পতি আয়শা আক্তার (৬২) ও আনোয়ার হোসেন (৬৮) অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যায় বড় ছেলে মো. জাকারিয়া হোসেন ফোনে বাবার অসংলগ্ন কথা শুনে বাসায় গিয়ে দেখেন মা অচেতন অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন এবং বাবা অসুস্থ হয়ে কাতরাচ্ছেন। পরে তাদের দ্রুত লুবানা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক আয়শা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। আনোয়ার হোসেন বর্তমানে আইসিউতে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যরা বাসায় ফিরে দেখেন ঘর এলোমেলো এবং গৃহকর্মী নিখোঁজ। বাসা থেকে ৫ ভরি ১০ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার, অপর কক্ষ থেকে ৬ ভরি স্বর্ণালংকার এবং আলমারি থেকে নগদ এক লাখ টাকা চুরি হয়েছে। পাশের বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮ টা ৫৬ মিনিটে ওই নারী বাসায় প্রবেশ করেন এবং দুপুর আড়াইটার দিকে একটি পলিথিন ব্যাগ হাতে বেরিয়ে যান।
পিবিআই জানায়, খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে বৃদ্ধ দম্পতিকে অচেতন করা হয়। অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগে আয়শা আক্তারের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। পরে তার ছেলে বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানা একটি মামলা (মামলা নং-২৭) দায়ের করেন।
এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, আসামি মাত্র দুই দিন আগে ভুয়া পরিচয়ে কাজে যোগ দেন। তার কোনো ফোন নম্বর বা সঠিক ঠিকানা ছিল না। ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ক্লু-লেস। আধুনিক প্রযুক্তি ও পূর্বের মামলার ডাটাবেজ বিশ্লেষণ করি। এরপর তার বিভিন্ন থানার মামলা থেকে ছবি শনাক্ত করে তার পুত্রবধূকে দেখানো হয়। পরে তার পুত্রবধূ আসামির ছবি দেখে শনাক্ত করেন। আমরা তার প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হই।
তদন্তের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, তার প্রকৃত নাম বিলকিস বেগম। তিনি পূর্বেও বিভিন্ন ছদ্মনামে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গৃহকর্মী সেজে চেতনানাশক প্রয়োগ করে চুরি করেছেন। খিলক্ষেত, শেরেবাংলা নগর, ভাটারা, উত্তরা পশ্চিম ও হাতিরঝিল থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। পিবিআইয়ের একাধিক টিম ময়মনসিংহ ও জামালপুরে অভিযান চালিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে গাজীপুর চৌরাস্তার আউটপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
কিসের সঙ্গে ওষুধ খাইয়ে গৃহকর্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গৃহকর্মী বিলকিস পানির সঙ্গে ১০টি ওষুধ মিশিয়ে ওই দম্পতিকে খাওয়ান। পরে হাসপাতালে নিলে গৃহকর্ত্রী মারা যান এবং তার স্বামী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর আগেও তিনি এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, কিন্তু মারা যাননি কেউ। এদিকে গ্রেফতার রবিউল আউয়াল শেরপুর জেলার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে গাজীপুরে ব্যবসা করেন। তদন্তে জানা গেছে, বিলকিস বেগম তার কাছে চোরাই স্বর্ণ বিক্রি করেছেন এবং জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। বিলকিস বেগমের কাছ থেকে নগদ ৬ হাজার ৩০০ টাকা, চেতনা নাশক ওই ওষুধের খালি পাতা ও একটি ছোট ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.