আজ
|| ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ‘চালবাজি’ করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে চড়া শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের
প্রকাশের তারিখঃ ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রভাত অর্থনীতি: বিশ্বজুড়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা বিশাল অঙ্কের শুল্কের বড় অংশ গত সপ্তাহে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট আটকে দেয়ার পর এবার নতুন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যেসব দেশ সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে চালবাজি বা টালবাহানা করবে, তাদের ওপর আরও চড়া হারে শুল্ক আরোপ করা হবে।
সর্বোচ্চ আদালতের ওই রায়ের পর বিভিন্ন দেশ যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের করা বাণিজ্যচুক্তি ও শুল্কের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করছে, ঠিক তখন ট্রাম্পের এ হুঁশিয়ারি এল। গত বছর ট্রাম্পের আরোপিত অধিকাংশ শুল্কই ওই রায়ে বাতিল হয়ে গেছে।
এ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) গ্রীষ্মে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির অনুমোদন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে ভারতও একটি সাম্প্রতিক চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য নির্ধারিত আলোচনা পিছিয়ে দিয়েছে।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেন, আদালতের রায়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কেউ যেন আগের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে না আসে। তিনি লেখেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের হাস্যকর রায় নিয়ে যেসব দেশ চালবাজি করতে চায়, বিশেষ করে যারা বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘লুট’ করেছে, তাদের আরও চড়া শুল্কের মুখে পড়তে হবে। সম্প্রতি তারা যে শুল্কে রাজি হয়েছিল, পরিস্থিতি তার চেয়ে খারাপ হবে। ক্রেতা সাবধান!’ এই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি মূলত গত শুক্রবারের আদালতের রায়ের পর তৈরি হওয়া চরম বিশৃঙ্খলারই বহিঃপ্রকাশ। ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে গত বসন্তে ট্রাম্প যেসব পাল্টা শুল্ক বসিয়েছিলেন, আদালত তা বাতিল করে দেন। আদালত বলেন, এই আইন প্রেসিডেন্টকে এমন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না।
আদালতের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ভিন্ন একটি আইন ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ নতুন শুল্ক ঘোষণা করেন, যা পরে দ্রুত বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। কিছু পণ্য বাদে এই নতুন শুল্ক মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে অনেক দেশই এখন তাদের চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে। আগে বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বা অন্য সুবিধার বিনিময়ে কম শুল্কের সুবিধা পেতে চুক্তি করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রেক্ষাপটে সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্রীষ্মে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির অনুমোদন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে ভারতও একটি সাম্প্রতিক চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য নির্ধারিত আলোচনা পিছিয়ে দিয়েছে।
চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা দেশগুলোর একটি যুক্তরাজ্য। দেশটি সোমবার জানিয়েছে, তারা মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চেয়েছে যে তাদের সঙ্গে হওয়া ১০ শতাংশ শুল্কের চুক্তিটি বহাল থাকবে কি না। কারণ, ট্রাম্প শনিবার নতুন করে ১৫ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা দিয়েছেন।
ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সবশেষ এই ঘোষণা যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, তা আমি বুঝতে পারছি।’ তিনি আরও বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জনগণকে সুরক্ষার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের সামনে ‘সব পথই খোলা’ রয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান বার্ন্ড লাঙ্গে বলেছেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে অনুমোদিত চুক্তির কার্যকারিতা স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘আগের চেয়ে বেশি অনিশ্চিত’ বলে মন্তব্য করেন।
অবশ্য হোয়াইট হাউস জোর দিয়ে বলছে, আদালতের রায়ের ফলে তাদের বাণিজ্যনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। তারা অন্য আইন ব্যবহার করে শুল্ক আদায় অব্যাহত রাখবে। ট্রাম্প শুক্রবার ‘সেকশন ১২২’ নামের একটি আইন কার্যকর করেন, যা এর আগে কখনো ব্যবহৃত হয়নি। এ আইনে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক আরোপ করতে পারেন।
এ ছাড়া ট্রাম্প ‘সেকশন ৩০১’ আইনের অধীন ‘অসৎ’ বাণিজ্যচর্চার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। এটি একটি আলাদা বাণিজ্য আইন, যা ‘অন্যায্য’ বাণিজ্যিক কার্যকলাপের জবাবে প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিয়েছে।
আদালতের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভিন্ন একটি আইন ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ নতুন শুল্ক ঘোষণা করেন, যা পরে দ্রুত বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। কিছু পণ্য বাদে এই নতুন শুল্ক আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার গত রোববার এবিসি নিউজকে বলেন, ‘বাস্তবায়নের আইনি পথ পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু নীতি পরিবর্তন হয়নি।’ একই দিন সিবিএস নিউজকে তিনি বলেন, হোয়াইট হাউস স্বাক্ষরিত চুক্তির পাশে থাকবে ও সহযোগীদের কাছ থেকেও একই প্রত্যাশা করে।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.