আজ
|| ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
মধ্যপ্রাচ্যে হামলা–পাল্টা হামলা : কার্গো পরিবহনে বিঘ্ন
প্রকাশের তারিখঃ ২ মার্চ, ২০২৬
প্রভাত অর্থনীতি: যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার হামলা–পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন এয়ারলাইনস বা বিমান সংস্থা ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক কার্গো পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব কথা বলেন।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে বড় ধরনের হামলা চালানোর পর প্রতিশোধ হিসেবে দেশটি উপসাগরীয় অন্যান্য আরব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দুবাই, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ছাড়াও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলার পরিপ্রেক্ষিতে কাতার, কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। ফলে পণ্য পরিবহনে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের কার্গো বিমান ব্যবহার করতে পারছে না বাংলাদেশ।
দেশের আমদানি–রপ্তানি পণ্য গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার কাজ করে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা। বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফা) সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি নামী এয়ারলাইনস বিভিন্ন দেশ থেকে যাত্রী ও কার্গো পরিবহন করে থাকে। এদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমিরেটস এয়ারলাইনস ও ইত্তিহাদ, কাতারের কাতার এয়ারওয়েজ, বাহরাইনের গালফ এয়ার, কুয়েতের কুয়েত এয়ারওয়েজ—এই পাঁচটি এয়ারলাইনসে বাংলাদেশ থেকে কার্গো সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে সৌদি আরবের সৌদি এয়ারলাইনসে এখনো পণ্য পরিবহন চালু রয়েছে।
বাফার একাধিক সদস্য প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কার্গো পরিবহন বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে সাময়িকভাবে হংকংয়ের ক্যাথে প্যাসিফিক, সিঙ্গাপুর এয়ালাইনস, তুরস্কের টার্কিস এয়ারলাইনস, থাইল্যান্ডের থাই এয়ারওয়েজ ব্যহার করা হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্য সংকট বেশি দিন চললে পণ্য পরিবহনে চাপ বাড়বে।
বাফার সাবেক পরিচালক ও ট্রান্স টিম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কে জেড আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই সময়ে কার্গো রপ্তানির চাপ কম। ফলে সাময়িকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি বিমান সংস্থায় কার্গো পরিবহন বন্ধ থাকলেও সেটির খুব বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে বিষয়টি বেশি দিন চলতে থাকলে আমরা অসুবিধায় পড়ব। সাধারণত ১৫ রোজার পর থেকে পণ্য রপ্তানির চাপ বাড়ে। এ কারণে আগামী তিন–চার দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আমাদের ওপরে চাপ বাড়বে।’
বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) সভাপতি আবদুল হামিদ গণমাধ্যমকে বলেন, ইতিমধ্যে কিছু প্রভাব পড়েছে। তবে এই মুহূর্তে বলা যাবে না যে কার্গো পরিবহন বিঘ্ন হওয়ার বড় প্রভাব পড়বে। কিন্তু এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে বড় প্রভাব লক্ষ করা যেতে পারে। রপ্তানির জন্য পণ্যের শুল্কায়ন হচ্ছে। যদিও সেগুলো বিমানবন্দরে আটকে যাচ্ছে। বিমানবন্দরের পাশাপাশি সমুদ্রবন্দরেও একই সমস্যা হবে।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.