প্রভাত সংবাদদাতা, রাজশাহী: রাজশাহীতে ১০ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ফলের দাম বেড়েছে ২০-৫০ টাকা। দাম বেশি হওয়ায় দোকানে ফল সাজানো থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি কম। যারা আসছেন তারাও দাম শুনে ফিরে যাচ্ছেন। সোমবার (২ মার্চ) নগরীর সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর মোড় ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গেট সংলগ্ন ফলের দোকানগুলো ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। রমজান হলেও বিক্রি প্রত্যাশিত নয়।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত ১০ দিনের তুলনায় বেশিরভাগ ফলের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আপেল আগে ২৮০-৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ৩২০-৩৪০ টাকা কেজি, বেদানা ৪৫০-৪৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০০-৫২০ টাকায় পৌঁছেছে, আঙুর ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের চেয়ে ২০-৩০ টাকা বেশি। কমলা, যা তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যেত, সেটিও এখন ৩৫০-৩৮০ টাকা কেজি। তরমুজ আগে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৩৫০ টাকার নিচে মানসম্মত কোনো ফল নেই বললে চলে।
ক্রেতারা বলছেন, রমজান এলে ফলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে। বাজারে কার্যকর নজরদারি থাকলে হয়তো এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। তাদের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার তদারকি ও মূল্য তালিকা যাচাই করা হলে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। অন্যথায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফল খাওয়া বিলাসিতায় পরিণত হবে।
ফল কিনতে আসা রফিক হোসেন বলেন, দিন দিন সবকিছুর দাম বাড়ছে। ফলের দাম এত বেশি যে ইফতারিতে ফল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সারাদিনের ইনকাম দিয়ে এক কেজি ফল কিনতেই কষ্ট। মনে হয় ফল সবার জন্য নয়, শুধু দেখে যাওয়ার জন্য।
লক্ষ্মীপুর মোড়ে এক রোগীকে দেখতে এসে আব্দুস সাত্তার বলেন, এক কেজি বেদানা কিনব ভেবেছিলাম। দাম শুনে মাথার ওপর দিয়ে গেছে। এত দাম হলে কীভাবে খাব? খালি হাতে গেলে লজ্জা লাগে, আবার এত দাম দিয়ে কেনাও সম্ভব না।
সাহেববাজারে বাজার করতে আসা আসলাম হোসেন বলেন, ফলের দাম শুনলে মাথা গরম হয়ে যায়। মনে হয় টাকা বুঝি গাছে ধরে! এত টাকা দিয়ে ফল কেনার সামর্থ্য নেই। না খেয়ে থাকব, তবু কিনতে পারব না।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ গেটসংলগ্ন ফল বিক্রেতা তরিকুল ইসলাম বলেন, পাইকারি বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, তাই খুচরায় কিছুটা বেড়েছে। তবে রমজানে যে পরিমাণ বিক্রি হওয়ার কথা ছিল, সে তুলনায় বিক্রি কম। মানুষ দাম শুনে চলে যাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, ফলের দাম আগে থেকে তুলনামূলক বেশি ছিল। বর্তমানে কিছুটা বেড়েছে; তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, খরচ বাড়ার কারণে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, রাজশাহী বিভাগের উপ-পরিচালক মো. ইব্রাহীম হোসেন বলেন, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে আমরা প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করছি। আমরা ফলের বাজারেরও খোঁজখবর রাখছি। বিশেষ করে কলা, আপেল, মাল্টা কত দামে ক্রয় করা হয়েছে, সেটির রশিদ আমরা দেখছি। কোথাও অনিয়ম পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। এ কার্যক্রম আমরা অব্যাহত রাখছি।