মো. জাফর ইকবাল, বিশেষ প্রতিনিধি : বরগুনার পাথরঘাটায় বিষখালী নদীসংলগ্ন এলাকায় হরিণ শিকারের ঘটনায় মো. হানিফ (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাথরঘাটা উপজেলার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাদুরতলা খাল সংলগ্ন এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে মো. হানিফকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
এ সময় দুটি জবাইকৃত পুরুষ হরিণের মাংস (আনুমানিক ১৬০ কেজি) উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। পাশাপাশি হরিণ শিকারে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার, প্রায় ১২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ফাঁদ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। আটক মো. হানিফ পাথরঘাটা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল বাশারের ছেলে। পরে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন।
এ ব্যাপারে পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মোঃ ফারুক ও সাবেক সেনা সদস্য মজিবুর রহমান কালু বলেন হরিণঘাটা বনায়ণে এক সময় অগণিত হরিণ ছিল, যার কারণে উল্লেখিত জায়গার নাম রাখা হয়েছিল হরিণঘাটা, দুষ্টচক্র হরিণ শিকারিদের কারণে আজ ঐতিহ্যবাহী হরিণঘাটা হরিণ শূন্য হয়ে পড়েছে। তারা বলেন, হরিণ শিকারীদের সাথে নিঃসন্দেহে কতিপয় অসাধু বন কর্মকর্তাদের যোগসাজস আছে তাদের যোগসাজশেই একের পর এক নির্বিচারে হরিণ নিধনে মেতে উঠছে শিকারীরা।
চৌধুরী মোঃ ফারুক ও মজিবুর রহমান কালু বলেন, যত দিনে বন ও হরিণ রক্ষাকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভালো না হবেন ততদিনে হরিণ শিকার বন্ধ করা অসম্ভব।