মো. মাহবুবুর রহমান, পাথরঘাটা : বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের এক গৃহবধূকে পরকীয়ার অভিযোগে সালিশ বৈঠকে প্রকাশ্যে জুতা দিয়ে পেটানো হয়েছে। সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য বিদায়ী কমিটির আহবায়ক ছগির আলম এর উপস্থিতিতে গৃহবধূকে জুতা পেটানো হয়। এ সময় এলাকার শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনেই জুতা দিয়ে পেটানোর ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার সদর ইউনিয়নের নিজলাঠিমারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের নিজলাঠিমারা গ্রামের এক গৃহবধূর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলছিল চরদুয়ানি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড ছোট টেংরা গ্রামের মো. মধু মিয়ার ছেলে বেল্লাল (৩৫) নামের যুবকের সাথে । রবিবার রাতে ওই গৃহবধূর সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রতিবেশীরা টের পেয়ে তাকে আটক করে। এর কিছুক্ষণ পরই এ নিয়ে সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ( ভারপ্রাপ্ত) ছগির আলম ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক সালিশ বৈঠক বসে।
সালিশে উপস্থিত লোকজনের সামনে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ( ভারপ্রাপ্ত) ছগির আলমের নির্দেশে গৃহবধুর বুক থেকে তিন মাসের শিশুকে কেড়ে নেয়া হয়। এরপর তাকে জুতা দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয় । চেয়ারম্যানের নির্দেশে জুতা দিয়ে পেটানোর ওই ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠে।
এদিকে গৃহবধূকে সালিশ বৈঠকে জুতো দিয়ে পেটানোর খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ প্রিন্ট মিডিয়া প্রকাশ হলে সোমবার (২ মার্চ) পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক দোষীদের বিরুদ্ধে সুয়ো মোটো মামলা করেন।
মামলায় আগামী ১০ মার্চের মধ্যে উল্লেখিত ঘটনায় জড়িত সকল ব্যক্তিদের নাম ঠিকানাসহ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার জন্য পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)কে আদেশ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাবুল মিয়া বলেন, গৃহবধূর সাথে বেল্লালের প্রেম ছিল। রবিবার দিবাগত রাতে স্থানীয় লোকজন তাদের হাতেনাতে ধরেছে। পরবর্তীতে চেয়ারম্যানকে খবর দিলে তিনি এলাকাবাসীর সামনে বিচার করেন।
জানতে চাইলে সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ছগির আলম বলেন, ‘পরকীয়ার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। পরে সালিশ বৈঠকের মধ্যে উপস্থিত লোকজনদের শান্ত করতে গৃহবধূর বাবাকে তার মেয়ের বিচার করতে বললে সবার সামনে তার মেয়েকে জুতা পেটা করেন।
জানতে চাইলে পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সদ্য বিদায়ী কমিটির আহবায়ক চৌধুরী মো : ফারুক এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ওই কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি রুস্তম আলী হাওলাদার বলেন, এ কাজটি তিনি দায়িত্বে থেকে করতে পারেন না। বিষয়টি দুঃখজনক।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মংচেনলা, বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমি একটি ভিডিও দেখেছি জুতাপেটা করার। কিন্তু এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।