• সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ০১:২৮ অপরাহ্ন

ধর্ষণ-হত্যা-সহিংসতার বিরুদ্ধে ঢাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ

প্রভাত রিপোর্ট / ১৪ বার
আপডেট : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: দেশব্যাপী ক্রমবর্ধমাণ ধর্ষণ এবং হত্যাসহ নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পদদেশে এ প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। সমাবেশে উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী আফিয়া হোমায়রা জেবু বলেন, আমাদের আজকের এই দাবি, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে। আমরা ধর্ষণমুক্ত সমাজ চাই। বছরের পর বছর ধরে আমরা নারী ক্ষমতায়ন এবং নারী স্বাধীনতার কথা বলে আসছি। কিন্তু সমাজে যদি এমন পদ্ধতিগত বাধা থাকে, তবে সেই ক্ষমতায়ন কোনও কাজে আসবে না। এ সময় তিনি ধর্ষণ ও হত্যা কঠোর হাতে দমনে সরকারের কাছে দাবি জানান।
সমাবেশে ওই বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিন আবদুল্লাহ বলেন, নারীদের প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। একটি ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আমরা আরেকটি বীভৎস ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। দেশে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তার অবসান না ঘটলে এই সহিংসতা থামানো সম্ভব নয়।
উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. সৈয়দ মো. শেখ ইমতিয়াজ বলেন, ধর্ষণের মতো অপরাধ রোধে সরকারের প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত জিরো টলারেন্স নীতি। কেবল অপরাধের খবর নয়, বরং অপরাধীর শাস্তির খবরও মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার করতে হবে। মানুষ যেন দেখতে পায় যে অপরাধ করলে পার পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, দেশে আইন আছে, কিন্তু সেগুলোর সঠিক প্রয়োগ নেই। ধর্ষণের ঘটনাগুলোতে প্রায়ই রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করে। এক দল হয়তো অপরাধ করে, অন্য দল তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। সব রাজনৈতিক দলের উচিত তাদের কর্মীদের জন্য জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা এবং কোনও অপরাধীকে আশ্রয় না দেওয়া।
ধর্ষণ প্রতিরোধের জন্য একটি জাতীয় কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এই কমিশনে একাডেমিয়া (শিক্ষাবিদ), অ্যাক্টিভিস্ট এবং এনজিও প্রতিনিধিদের রাখা উচিত, যারা ধর্ষণের পেছনের কারণগুলো গবেষণা করবেন এবং নিয়মিত মনিটরিং করবেন। তিনি আরও বলেন, স্কুল, কলেজ এবং এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেও জেন্ডার ট্রেনিং বা নারী-পুরুষের সমতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের শেখাতে হবে কোনটি সহিংসতা আর কোনটি নয়।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও