• মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
হামলায় অবৈধভাবে ‘সাদা ফসফরাস’ ছুড়েছে ইসরায়েল রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে কমিটি; প্রজ্ঞাপন জারি সারাদেশে জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামছে ভ্রাম্যমাণ আদালত মধ্যপ্রাচ্য সংকট, শ্রমবাজারে নতুন চ্যালেঞ্জ ভর্তুকির চাপে দিশেহারা বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত শিক্ষাকে মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করতে চায় সরকার: শিক্ষামন্ত্রী রমজানের পরই সারাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তামাকের ‘প্রকাশ্যে ব্যবহার নিষিদ্ধ’ করার প্রস্তাব দেয়া হবে: তথ্যমন্ত্রী ভোজ্যতেলের দাম এক ফোঁটাও বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

হামলায় অবৈধভাবে ‘সাদা ফসফরাস’ ছুড়েছে ইসরায়েল

প্রভাত রিপোর্ট / ৭ বার
আপডেট : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: দক্ষিণ লেবাননের একটি শহরের আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে ইসরায়েল বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সোমবার এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, গত ৩ মার্চ দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমোর শহরে বাড়িঘরের ওপর আর্টিলারি থেকে নিক্ষেপ করা সাদা ফসফরাস গোলা ব্যবহার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
এইচআরডব্লিউ বলেছে, তারা অন্তত সাতটি ছবি যাচাই করেছে, যেখানে দেখা গেছে, আবাসিক এলাকার ওপর আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে সাদা ফসফরাস ছড়িয়ে পড়ছে। ওই এলাকায় দুটি বাড়ি ও একটি গাড়িতে আগুন লাগার ঘটনায় সিভিল ডিফেন্স কর্মীদেরও সাড়া দিতে দেখা গেছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সাতটি ছবি এবং ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে নিশ্চিত করেছে যে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ১৫৫ মিলিমিটার আর্টিলারি প্রজেক্টাইল ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে। সাদা ফসফরাস অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসা মাত্রই প্রজ্বলিত হয় এবং এটি মানবদেহে এমন গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে যা জীবনভর যন্ত্রণার কারণ হতে পারে। সংস্থাটির লেবানন গবেষক রামজি কাইস এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে জনাকীর্ণ এলাকায় এই অস্ত্রের ব্যবহার বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে।
বিকট বিস্ফোরণে কাঁপল বৈরুত: লেবাননের বৈরুতে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি’র এক সংবাদদাতা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলাকাটি হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এবং সম্প্রতি ইসরায়েলি বাহিনী এখানে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বিস্ফোরণের পর ওই এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে বলে জানান ওই সাংবাদিক। এর আগে ওই এলাকার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিন। যার ফলে সেখানে ব্যাপক জনসমাগম ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহের ধারাবাহিক তীব্র বিমান হামলার পর গত শনিবার থেকে এলাকাটিতে নতুন করে কোনো হামলা হয়নি। ইরানে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অতর্কিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইরানে এখন পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে আহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।
ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর লেবাননেও হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। দেশটির বাহিনী লেবাননে স্থল অভিযানের কথাও জানিয়েছে।
টানা ১০ দিন ধরে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটে ইরান: ইরানে সরকার আরোপিত নজিরবিহীন ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট সোমবার (৯ মার্চ) দশম দিনে পদার্পণ করেছে, যার ফলে দেশটির প্রায় ৯ কোটি মানুষ বিশ্ব থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘নেটব্লকস’ তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানিরা এখন পর্যন্ত টানা ২১৬ ঘণ্টা বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ইরানে ইন্টারনেটের সংযোগ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা প্রায় সম্পূর্ণ শাটডাউনের সমান। রাষ্ট্রীয় এই কঠোর বিধিনিষেধের ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন ভেঙে পড়েছে, তেমনি বহির্বিশ্বের সঙ্গে সব ধরনের তথ্য আদান-প্রদানও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নেটব্লকস তাদের দৈনিক হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে যে, রাষ্ট্রীয়ভাবে চাপিয়ে দেওয়া এই শাটডাউনের মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি ইরানি নাগরিকের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মূলত দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নতুন নেতৃত্বের অধীনে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ব্ল্যাকআউট কার্যকর করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় সাধারণ নাগরিকেরা জরুরি সেবা গ্রহণ, ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারছেন না। বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরানের এই পদক্ষেপকে তথ্যের অবাধ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার একটি চরম পন্থা হিসেবে অভিহিত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১০ দিন ধরে চলা এই দীর্ঘমেয়াদি ব্ল্যাকআউট ইরানের সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের পাশাপাশি দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিতেও বড় ধরনের আঘাত হানছে। বিশেষ করে অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা এবং যোগাযোগ নির্ভর খাতগুলো এখন সম্পূর্ণ অচল।
নেটব্লকস ক্রমাগত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং জানিয়েছে, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে ইরানের হাতেগোনা কয়েকটি সরকারি দপ্তর ছাড়া সাধারণ জনগণের জন্য ইন্টারনেটে প্রবেশের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। এই ‘ডিজিটাল নীরবতা’ কতদিন স্থায়ী হবে সে সম্পর্কে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের ভেতরে ঠিক কী ঘটছে, তা বহির্বিশ্বের জন্য জানা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তথ্যের এই শূন্যতা দেশটিতে চলা চলমান সংঘাত বা বিক্ষোভের খবর প্রচারকেও অসম্ভব করে তুলেছে। নেটব্লকস উল্লেখ করেছে, ইন্টারনেট সংযোগ ১ শতাংশে নামিয়ে আনার অর্থ হলো দেশটিতে ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ৯ কোটি মানুষকে এভাবে নীরব করে দেওয়ার ঘটনাকে সমসাময়িক ডিজিটাল ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ইন্টারনেট শাটডাউন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অচলাবস্থা নিরসনে আন্তর্জাতিক মহলের চাপের মুখে তেহরান কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
তৃতীয় ভবিষ্যদ্বাণী মিললেই ‘ধ্বংস’ যুক্তরাষ্ট্র : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কথা দুই বছর আগেই ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ করেছিলেন ‘প্রেডিক্টিভ হিস্ট্রি’র উপস্থাপক অধ্যাপক জুয়েকিন জিয়াং। বেইজিংয়ে দর্শন এবং ইতিহাস পড়ান তিনি। ২০২৪ সালের মে মাসের এক বক্তৃতায় জিয়াং জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরবেন। পরবর্তী ক্ষেত্রে ভূ-রাজনৈতিক চাপের কারণে ইরানের সঙ্গে সম্মুখসমরে নামতে বাধ্য হবেন তিনি। নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে এই দু’টি পূর্বাভাসের কথা জানিয়েছিলেন জিয়াং। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের আবহে জিয়াংয়ের সেই অনলাইন বক্তৃতাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে নজর কেড়েছে। তার দু’টি বক্তব্যই নির্ভুলভাবে মিলে যাওয়ায় অনেকেই তাকে ‘চীনের নস্ত্রাদামুস’ বলে ডাকতে শুরু করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে চীনের এই অধ্যাপক তিনটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। তার মধ্যে দু’টি ইতোমধ্যে সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছে। তৃতীয় ভবিষ্যদ্বাণীটির জন্য আপাতত অপেক্ষা করতে হবে বিশ্ববাসীকে। কারণ জিয়াং তার তৃতীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে পূর্বাভাসটি দু’বছর আগে জানিয়ে রেখেছেন সেটি হলো, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় ঘটবে এবং রাষ্ট্রটি ধ্বংস হবে!
বেইজিংয়ে দর্শন-ইতিহাসের অধ্যাপক জিয়াং ইয়েল কলেজ থেকে স্নাতক করেছেন। অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনা, ঐতিহাসিক চক্র এবং ভূ-রাজনৈতিক তথ্যের বিশ্লেষণ ব্যবহার করে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক ঘটনা বা প্রবণতার পূর্বাভাস দেওয়াই হলো ‘প্রেডিক্টিভ হিস্ট্রি’ বা ‘ভবিষ্যদ্বাণীমূলক ইতিহাস’।
জিয়াংয়ের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান এই সংঘাত কোনো সামরিক সংঘর্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এতে জড়িয়ে পড়বে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো একটি রক্তক্ষয়ী ও বিপজ্জনক ভূ-রাজনৈতিক সংগ্রামে পরিণত হতে পারে তেহরান-ওয়াশিংটনের বিবাদ। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হবে এবং স্বাভাবিকভাবেই তা আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারকে প্রভাবিত করবে।
জিয়াং সম্প্রতি ‘ব্রেকিং পয়েন্টস’ নামে একটি সংবাদসিরিজে বলেন, যুদ্ধের অগ্রগতি সম্পর্কে আমার বিশ্লেষণ দেখে মনে হচ্ছে যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। মার্কিন সংঘাতের জন্য ইরানিরা ২০ বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, জিয়াংয়ের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রটি ধ্বংস হয় কিনা!


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও