আজ
|| ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২৩শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে আরও ৬ জাহাজে হামলা
প্রকাশের তারিখঃ ১২ মার্চ, ২০২৬
প্রভাত ডেস্ক: ইরাকের জলসীমায় তেলের ট্যাংকারে বিস্ফোরকবোঝাই ইরানি বোটের হামলায় গতকাল বুধবার এক ক্রু সদস্য নিহত ও দুটি জাহাজ ভস্মীভূত হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে আরও চারটি জাহাজে প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলা) হামলার পরপরই এ ঘটনা ঘটল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর সাম্প্রতিকতম এই হামলা ইরান যুদ্ধের এক বড় ধরনের বিস্তার হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ অঞ্চলে (মধ্যপ্রাচ্য) হামলার শিকার হওয়া জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৬টিতে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করার পর থেকে পারস্য উপসাগর ও সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ রুট দিয়ে পরিবহন করা হয়। এ উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা তাদের মিত্রদের জন্য ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি তেল রপ্তানি বন্ধের চেষ্টা করে, তবে ওয়াশিংটন আরও কঠোরভাবে দেশটিতে আঘাত হানবে। তিনি তেল কোম্পানিগুলোকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে দাবি করেন, ‘ইরানের নৌবাহিনীর প্রায় সবটাই এখন ধ্বংস হয়ে গেছে।’ ইরাকি বন্দর কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, গতকাল গভীর রাতে হামলার শিকার হওয়া জাহাজ দুটি হলো মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘সেফ সি বিষ্ণু’ ও মাল্টার পতাকাবাহী ‘জেফিরোস’। জাহাজ দুটি ইরাক থেকে জ্বালানি পণ্য বোঝাই করেছিল। ইরাকের রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন সংস্থা সোমো জানিয়েছে, ‘সেফ সি বিষ্ণু’ জাহাজটি তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ একটি ইরাকি কোম্পানি ভাড়া করেছিল। আর ‘জেফিরোস’ জাহাজ বসরা গ্যাস কোম্পানির জ্বালানি পণ্য নিয়ে যাচ্ছিল। সোমো আরও জানিয়েছে, ইরাকি জলসীমার ভেতর এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে পণ্য স্থানান্তরের সময় দুটি জাহাজই আক্রান্ত হয়।
লেবানন দখল করে নেয়ার হুমকি ইসরায়েলের: লেবানন দখল করে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তিনি বলেছেন, লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ ইসরায়েল লক্ষ্য করে হামলা চালাতে থাকলে লেবাননের ভূখণ্ড দখল করে নেওয়া হবে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনি লেবাননের সরকারকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন হিজবুল্লাহ যেন ইসরায়েলে আক্রমণ করা বন্ধ করে। তা না হলে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী লেবাননের ভূখণ্ডে আক্রমণ করবে এবং দখল করে নেবে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বরাত দিয়ে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল বলেছে, হিজবুল্লাহ গতকাল ইসরায়েল লক্ষ্য করে প্রচণ্ড হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েল কাৎজ বলেন, তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছেন যদি লেবানন সরকার না জানে কিভাবে নিজেদের ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে হয়; হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলে হামলা চালানো থেকে নিবৃত্ত করতে না পারে তাহলে লেবানন দখল করে ইসরায়েলের সঙ্গে জুড়ে নেওয়া হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালাতে থাকে ইরান। ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ লেবানন থেকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। এরপর ২ মার্চ থেকে লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.