প্রভাত সংবাদদাতা, নোয়াখালী : সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ, কবিরহাট ও সদর উপজেলার পাঁচ গ্রামের দুই শতাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি আজ শুক্রবার ঈদ উদযাপন করেছেন। পূর্বপুরুষদের দেখানো পথ ধরে শত বছরের বেশি সময় ধরে তারা এভাবে ঈদ উদযাপন করে আসছেন। আগাম ঈদ উদযাপনকারী এসব মানুষ হানাফি মাযহাব ও কাদেরিয়া তরিকার অনুসারী।
শুক্রবার সকাল ৮টায় তিন উপজেলার ১০টি মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়।
গ্রামগুলো হলো– নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর ও হরিণারায়নপুর; কবিরহাট উপজেলার ঘোষবাগ ইউনিয়নের রামভল্লবপুর; বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তবাগ ও ফাজিলপুর গ্রাম। তারা চট্টগ্রামের সাতকানিয়া জাহাগিরিয়া দরবার শরিফের কাদেরিয়া চিশতিয়া জাহাগিরিয়া তরিকার অনুসারী।
সদর উপজেলার লক্ষীনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, চাঁদের ওপর নির্ভর করে তারা ঈদসহ ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি পালন করে আসছেন বছরের পর বছর ধরে। পৃথিবীর কোনও প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলে তারা সে হিসাব অনুযায়ী ঈদ ও কোরবানি পালন করেন। কয়েক প্রজন্ম পূর্ব থেকেই তারা এ রীতিনীতি পালন করে আসছেন।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, নোয়াখালীর তিনটি উপজেলার পাঁচটি গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক ধর্মপ্রাণ মুসুল্লি আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উৎযাপন করছেন। এ ছাড়া জেলাজুড়ে আগামীকাল বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হবে। মুসল্লিরা যাতে নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারেন সেজন্য জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় দফতরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
উল্লেখ্য, কাদেরিয়া তরিকা হলো ইসলামি সুফিবাদের অন্যতম প্রাচীন ও প্রভাবশালী একটি ধারা; প্রখ্যাত সুফি সাধক হজরত আব্দুল কাদির জিলানী (র.)-এর নামে প্রতিষ্ঠিত। এই তরিকা কঠোর ইবাদত, আত্মশুদ্ধি, ফকিরি এবং জাগতিক ভোগবিলাস বর্জনের ওপর জোর দেয়। বিশ্বের বহু দেশে, বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশে এর ব্যাপক অনুসরণ রয়েছে।