আজ
|| ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৯ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
যাত্রী সংকটে কল্যাণপুররে বাস কাউন্টারগুলো
প্রকাশের তারিখঃ ২০ মার্চ, ২০২৬
প্রভাত রিপোর্ট: ঈদযাত্রার শেষ দিনে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালের মতো কল্যাণপুরেও দেখা গেছে অভিন্ন চিত্র। যাত্রী সংকটে রয়েছে বাস কাউন্টারগুলো। কোনও যাত্রী এলেই সব কাউন্টারের কর্মীরা ডাকাডাকি করছেন নিজেদের টিকিট বিক্রি করতে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সরেজমিন দেখা গেছে, হাতে গোনা কিছু যাত্রী কাউন্টারে আসছেন। অনেক বাসই নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করছে যাত্রী পূরণের জন্য। যখন কোনও যাত্রী কাউন্টারের দিকে আসছেন, তখন সবাই মিলে ডাকাডাকি করছেন নিজেদের বাসের টিকিট বিক্রির জন্য। অন্যান্য সময়ের মতো নেই কোনও যাত্রীদের ভিড় কিংবা টিকিট কেনার লাইন। অনেক বাসের কাউন্টার বন্ধও থাকতে দেখা যায়।
এবারের ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ি যাওয়ার চিত্রটা ভিন্ন। ঈদ যাত্রার শেষ দিনে নেই কোনও যাত্রীদের হুড়োহুড়ি। টিকিট নিয়ে নেই কোনও উচ্চবাচ্য। যাত্রীরা এসেই টিকিট কেটে চলে যেতে পারছেন।
এ বিষয়ে হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার মাস্টার মো. ফারুক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আজ সকাল থেকেই যাত্রীর চাপ নেই। যারা যাওয়ার আগেই চলে গেছে। আসলে ২৯ রোজা হলে আজ ঈদ হওয়ার কথা। সেই হিসেবে মানুষ আগেই চলে গেছে। তাই আজ কম যাত্রী যাচ্ছে। আমাদের মূল চাপ ছিল ১৬, ১৭, ১৮ মার্চ। তিনি বলেন, আমাদের ৪০ সিটের বাস, আমরা আজ মিনিমাম ৩০ জন যাত্রী পেলেই বাস ছেড়ে দিচ্ছি। কারণ যাত্রীই পাওয়া যাচ্ছে না।
রংধনু এক্সপ্রেসের জেনারেল ম্যানেজার হাসিবুল হাসান বলেন, লম্বা ১২-১৪ দিনের ছুটির কারণে মানুষ আগেই চলে গেছে বাড়িতে। এ কারণে আজ শেষ দিনে যাত্রী চাপ নেই। অন্য সময় শেষ দিনের যে চিত্র দেখা যেতো সেটা এবার নেই। আর আমাদের বাস হলো, সব স্লিপার কোচ, তাই যাত্রীর সংখ্যা আরও কম। দুপুর ১২টায় যে বাস ছাড়বো সেটা এখন পৌনে ১২টা পর্যন্ত একটা টিকিট বিক্রি হয়েছে। এই হচ্ছে আজকের অবস্থা।
অরিন ট্রাভেলসের কাউন্টার মাস্টার ফরিদুর রহমান বলেন, ৩০ রোজা হওয়ার কারণে আজ যাত্রী কম। সাধারণত ৩০ রোজার দিন যাত্রী চাপ কমই থাকে। তার ওপর এবার লম্বা ছুটি, মানুষ আগেই চলে গেছে। এ কারণেই শেষ সময়ে হুড়োহুড়ি করতে হচ্ছে না।
এদিকে সবাই যখন যাত্রী খরায় রয়েছেন তখন অরিন ট্রাভেলস ফুল যাত্রী নিয়ে বাস ছাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের আজ ভোর থেকে আটটি বাস ঢাকা ছেড়ে গেছে। এরমধ্যে সাতটিই সিট ফুল ছিল। আমাদের যাত্রী আছে।
এদিকে ভিড় ও ভোগান্তি কম থাকায় যাত্রীরা তুলনামূলক স্বস্তিতে টিকিট কেটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হতে পারছেন। যা ঈদযাত্রার শেষ দিনে এক স্বস্তির যাত্রাই হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
রংপুরের যাত্রী মো. লাভলু মিয়া বলেন, আমি একটা পাবলিক সার্ভিস রিলেটেড জব করি, তাই আমার অফিসে শেষ কার্যদিবস ছিল গতকাল। ৩০ রোজা হওয়ায় আমার সুবিধা হয়েছে। আজকে ধীরেসুস্থে যেতে পারছি। সবাই আগেই চলে গেছে, আমিই কেবল কাজের অন্য যেতে পারিনি। আজ টিকিট পেতেও কোনও সমস্যা হয়নি। এসেই পেয়ে গেছি। বাস কাউন্টারগুলো ফাঁকাই আছে।
বগুড়ার যাত্রী শাহনেওয়াজ কবির বলেন, শেষ দিন হিসেবে আজ পুরাই ফাঁকা বাস কাউন্টারগুলো। যদিও ৩০ রোজা হলে যাত্রীদের ভিড় কমই থাকে। তবে এবারের মতো কম থাকে না। এবার বিশাল ছুটির কারণে এমন হয়েছে। আমি বলবো এটা ভালো হয়েছে, কারণ সবাই ধাক্কাধাক্কি-মারামারি না করে শান্তিতে বাড়ি যেতে পারছে।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.