প্রভাত সংবাদদাতা, চট্টগ্রাম : পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতেও সচল ছিল দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর। গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ছুটির সময়ে বন্দরটিতে কার্গো, কনটেইনার এবং জাহাজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রম ছিল অনেকটা স্বাভাবিক।
বন্দরের দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, ১৭ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত এই পাঁচ দিনে চট্টগ্রাম বন্দর মোট ১৮ লাখ ৪২ হাজার ৩১৮ টন কার্গো হ্যান্ডলিং করেছে। এর মধ্যে ১৭ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭৫ টন ছিল আমদানি পণ্য এবং ১ লাখ ২ হাজার ৭৪৩ টন ছিল রপ্তানি পণ্য।
একই সময়ে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৭২৫ টিইইউস। এর মধ্যে আমদানি হয়েছে ১৯ হাজার ২৩৭ টিইইউস এবং রপ্তানি হয়েছে ১৭ হাজার ৪৮৮ টিইইউস। সাধারণত ঈদের ছুটিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা গেলেও, এবার বন্দরে টেকসই বাণিজ্যিক প্রবাহ বজায় ছিল।
পাঁচ দিনের এই ছুটির মধ্যে বন্দরে মোট ৪৪টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৮ মার্চ ছিল বন্দরের সবচেয়ে ব্যস্ততম দিন। ওইদিন ৯টি জাহাজের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৪ টন কার্গো এবং ১১ হাজার ৮৬১ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়। ১৯ মার্চ বন্দরে সর্বোচ্চ ১৪টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয় এবং এদিন কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ১৬ হাজার টনের বেশি। তবে ছুটির শেষ দিকে অর্থাৎ ২১ মার্চ ঈদের দিন কার্যক্রম কিছুটা কমে আসে। ঈদের নামাজ ও উদযাপনের জন্য ওইদিন সকাল থেকে ৮ ঘণ্টা অপারেশন বন্ধ থাকায় কার্গো হ্যান্ডলিং কমে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮৭৪ টনে এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিং ৯৬২ টিইইউসে নেমে আসে। এদিন জাহাজ হ্যান্ডলিং হয় মাত্র ৩টি।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) সচিব মো. রেফায়েত হামিম জানান, উৎসবের মৌসুমে দেশের সরবরাহ চেইন যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে বন্দর ২৪ ঘণ্টা সচল রাখা হয়েছিল। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ছুটির কারণে বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি নেওয়ার গতি কিছুটা ধীর ছিল।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং শিল্পকারখানার কাঁচামাল আমদানির নিরবচ্ছিন্ন হ্যান্ডলিং বাজারের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে রপ্তানি কার্যক্রম কিছুটা কমলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সারওয়ার হোসেন সাগর বলেন, ‘ঈদের দিন সকালে কেবল ৮ ঘণ্টার বিরতি ছাড়া বাকি পুরো সময় বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলেছে।’