প্রভাত সংবাদদাতা, নীলফামারী: কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি নীলফামারী জেলায় আঘাত হেনেছে। এতে জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা ও সদর উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এটি নজিরবিহীন শিলাবৃষ্টি। মাঠে ধান মাটির সাথে মিশে গেছে। ভুট্টা, আখ, বেগুন, কলাসহ বিভিন্ন ফসলের গাছ পাতাবিহীন দাঁড়িয়ে আছে। কৃষকের মাঝে কান্নার রোল দেখা দিয়েছে। এ অবস্থা জেলার ডোমার উপজেলায় বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে। জানা গেছে, শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ১২টার পর আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায়।
কিছুক্ষণের মধ্যে শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির সঙ্গে শিলাবৃষ্টি। কোথাও কোথাও শিলার স্তূপ জমে যায়। শিলাবৃষ্টিতে টিনের ঘরবাড়ি এবং কৃষি জমির ফসল যেমন আলু, গম, ভুট্টা, মরিচ, বাদাম, তামাক ও কলাসহ বিভিন্ন ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় শিলার আঘাতে গাছের পাতা ঝরে গেছে এবং কাঁচা ফল নষ্ট হয়ে গেছে। বসতবাড়ির টিনের ছাউনি ফুটো হয়ে গেছে, কোথাও কোথাও জানালার কাচ ভেঙে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে আলুর ন্যায্য দাম না পাওয়ায় তারা আগেই লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। এর মধ্যে আবার বেশি দামে সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ কিনে ভুট্টা, মরিচ, তামাক ও কলার চাষ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে সেই আশার ফসলও মাঠেই নষ্ট হয়ে গেছে।
নীলফামারী কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মঞ্জুর রহমান জানান, শুক্রবার রাতে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। রাতেই অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শনিবার (২৮ মার্চ) কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ চালু হলেও অনেক জায়গায় এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছেনি।