আজ
|| ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
গ্রিসে যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের ১০ যুবকের মৃত্যুতে জেলাজুড়ে শোকের ছায়া
প্রকাশের তারিখঃ ২৯ মার্চ, ২০২৬
প্রভাত সংবাদদাতা, সুনামগঞ্জ : লিবিয়া থেকে নৌকায় গ্রিসে যাওয়ার পথে সাগরে পথ হারিয়ে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে অন্তত ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের অন্তত ১০ জন রয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উন্নত জীবনের আশায় প্রবাসে যাওয়ার স্বপ্ন হাওর অঞ্চলের অনেক যুবকদের। তবে সেই প্রবাস পাড়ি দেওয়ার পথটি ইতোমধ্যে অনেকেই দালালের মাধ্যমে বেঁচে নিচ্ছেন। ফলে উন্নত জীবন তো দূরের কথা সেই প্রবাসে যেতে গিয়ে কেউ মাফিয়া চক্রের পাল্লায় পড়েছেন, কেউবা কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরছেন আবার কেউবা চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছেন সমুদ্রের গভীর নোনাজলে।
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের ৭০ বছরের বৃদ্ধ আব্দুল গনি। ৩ ছেলে ৪ মেয়েকে নিয়ে সাজানো সংসার। তবে গণির ছোট ছেলের বায়না পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে দূর প্রবাসে পাড়ি দেবে। নিরুপায় হয়ে বৃদ্ধ বাবা ঋণ করে ১২ লাখ টাকা জোগাড় করে ছেলেকে দালালের মাধ্যমে গ্রিসে পাঠালেও সেই ছেলের মৃত্যু হয় সমুদ্রের মধ্যে। সেই শোকে কাতর হয়ে মোবাইল হাতে নিয়ে বাড়ি সামনে বসে অঝোরে কাঁদছেন বৃদ্ধ বাবা।
আব্দুল গনি গণমাধ্যমকে জানান, জায়গা বিক্রি করে টাকা দিলাম। দালালকে অনেক অনুরোধ করলাম ছেলে যেন ভালো মতে পৌঁছে, কিন্তু সেটা আর হলো না। এখন একটাই চাওয়া শেষবারের মতো ছেলের নিথর দেহটা দেখতে চাই।
তবে একই গ্রামের আরও দুই যুবক কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২), মৃত ক্বারী ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মো. সাহান এহিয়াসহ (২২) একই উপজেলার ৫ যুবকের মৃত্যু হয়।
মূলত অবৈধভাবে গ্রিস যাওয়ার পথে সাগরের পথ ভুলে খাবার আর বিশুদ্ধ পানির অভাবে একে একে মৃত্যু হয় সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের ৫, জগন্নাথপুরে ৪ ও দোয়ারা বাজার একজনসহ তিন উপজেলার ১০ যুবকের। এতে জেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত দিরাইয়ের এক যুবকের মামা মো. আরশাদ গণমাধ্যমকে বলেন, সংসারের হাল ধরতে দালালের মাধ্যমে আমার ভাগনে গ্রিসের পথে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু সেটা আর হলো না। গ্রিসে যাওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলো।
নিহত মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না আত্মীয় রাহুল মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, দালালকে ১২ টাকা ঋণ করে দিয়ে আমাদের সন্তানদের মরতে হলো। আমরা এখন কী নিয়ে বাঁচবো? দালালদের শাস্তি চাই।
দিরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। যারা অবৈধভাবে গ্রিস যেতে চেয়েছিল তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.