আজ
|| ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১লা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
৮ বছর হামের টিকা দেয়া হয়নি, নতুন করে কিনতে বরাদ্দ ৬০৪ কোটি টাকা
প্রকাশের তারিখঃ ২৯ মার্চ, ২০২৬
প্রভাত রিপোর্ট: স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, গত ৮ বছর হামের টিকা দেওয়া হয়নি। এ কারণে সম্প্রতি হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। তবে এ সংকট সমাধানে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে নতুন করে টিকা কিনছে সরকার। রবিবার বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক ওষুধ শিল্প মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। দেশের হামের প্রবণতা বেড়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের সক্ষমতা রয়েছে। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ডিএনসিসি হাসপাতালে হামের জন্য আলাদা কর্নার করা হয়েছে।
মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যখাতে নতুন নতুন সংকট দেখা দিচ্ছে। সেগুলো মোকাবিলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করব।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভেন্টিলেটর সংকট মোকাবিলায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চারটি ভেন্টিলেটর মেশিন সরবরাহের জন্য স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী সোমবার সকালে রামেক হাসপাতালে যাবেন। পাশাপাশি আরও ১২টি ভেন্টিলেটর পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। রবিবার পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে রূপগঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘১৭তম এশিয়া ফার্মা এক্সপো’-তে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে সংকট নিরসনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
এদিকে, দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় টিকাদান কর্মসূচির কথা ভাবা হচ্ছে। যেসব শিশু এখনো হামের টিকা পায়নি, তাদের আওতায় আনতে সরকার ৬০৪ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে। টিকা সংগ্রহ সম্পন্ন হলে সারাদেশে বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানোর কথাও ভাবছে সরকার। রাজশাহী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে ১১ দিনে ভেন্টিলেশনের অভাবে ৩৩ শিশুর মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
মানুষের জন্য উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চতে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ৪০টি আইসিইউ বেড দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। রবিবার (২৯ মার্চ) বিশ্ব যক্ষ্মা দিবসের আলোচনা সভা শেষে হাসপাতালটির বিশেষায়িত অ্যাজমা সেন্টারে নবনির্মিত ৪০টি আইসিইউ বেড প্রস্তুতি কার্যক্রম ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি দ্রুত সেবাটি চালুর নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালে কয়েক বছর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ফ্লোরগুলো পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি পরিত্যক্ত জায়গা সংস্কার করে গড়ে তোলা অত্যাধুনিক আইসিইউ শয্যা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ করে বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে কম খরচে এবং সুলভ মূল্যে আইসিইউ সেবা পেতে পারে, সে জন্য এই ইউনিটটি যত দ্রুত সম্ভব চালু করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠন করা এবং প্রতিটি নাগরিকের কাছে উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া। একইসঙ্গে গরিব মানুষ যাতে সহজে কম খরচে উন্নত চিকিৎসা সেবা পায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত জায়গাকে ব্যবহার উপযোগী করে সেখানে এই আইসিইউ ব্লক তৈরি করা হয়েছে। এটি চালু হলে বক্ষব্যাধি ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিল রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভরতা কমবে। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ এবং চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.