আজ
|| ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৯ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রকাশের তারিখঃ ৩০ মার্চ, ২০২৬
প্রভাত রিপোর্ট: রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি তথা অর্থনৈতিক কূটনীতির সফল প্রয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্কোন্নয়নে সরকার সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য এ ই সুলতান মাহমুদ বাবুর এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ কথা জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রশ্নের জবাব দেন। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই ও বহুমাত্রিক করে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের আলোকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি তথা অর্থনৈতিক কূটনীতির সফল প্রয়োগের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কোন্নয়নে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, ইউরোপ, আমেরিকার মতো প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি দেশি পণ্যের নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান অর্থনীতির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা হচ্ছে।
সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (পিটিএ) এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলমান রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে আমাদের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও জোরদার হবে। এ প্রসঙ্গে আমরা পুনরায় মহান সংসদ ও দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই দর্শনকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার এসব চুক্তি সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাজার সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের রপ্তানি আয়ের একটি বড় অংশ তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল থাকায় বৈশ্বিক বাজারের বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের ওপর আমাদের রপ্তানি আয় নির্ভরশীল।
এই এককেন্দ্রিক নির্ভরশীলতা কমিয়ে রপ্তানিযোগ্য পণ্য সমৃদ্ধ বহুমাত্রিক রপ্তানি কাঠামো গড়ে তোলার ওপর বর্তমান সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বহুমুখী রপ্তানিপণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো নিয়মিত প্রদর্শনী আয়োজন করছে এবং স্বাগতিক দেশের আয়োজিত মেলায় নিয়মিতভাবে অংশ নিচ্ছে। দূতাবাসগুলো এ কাজে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোকে সর্বত সহযোগিতা করে থাকে। আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্যের বৈশ্বিক প্রচার এবং ইআইপিএ সুবিধা কাজে লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে সিংগেল উইন্ডোর মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি পরিচালনা করা শুরু হয়েছে।
খলিলুর রহমান বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাবিজ (ইধহমষধইওত) পোর্টালের মাধ্যমে ওয়ান স্টপ ডিজিটাল সেবা চালু, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কর রেয়াত, মূলধন ও লভ্যাংশ প্রত্যাবাসনের সীমা বৃদ্ধিসহ উপযুক্ত প্রণোদনা, অগ্রাধিকারমূলক খাত চিহ্নিতকরণ, বিডা, বেজা, বেপজাসহ ৬টি সংস্থাকে একটি কমন প্ল্যাটফর্মে আনা, ৩২ দফা সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণসহ বেশকিছু কার্যক্রম চলমান আছে। বিডার প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ শক্তিশালী করতে ১০টি অগ্রাধিকার খাতের তথ্য, বিনিয়োগ প্রণোদনার বিবরণ, ফোকাল পয়েন্টের তথ্য ও সেক্টরভিত্তিক গবেষণা ও প্রতিবেদন সংযুক্ত করে বিডার ওয়েবসাইট পুনর্র্নিমাণ করা হয়েছে। এসব প্রক্রিয়ার সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সক্রিয়ভাবে যুক্ত। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দূতাবাসগুলো ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল বিনিময় এবং কনস্যুলার সেবা উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে বন্দর ও কাস্টমস-সংক্রান্ত ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আশা করি যে, সরকারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। এসব উদ্যোগের আন্তর্জাতিক প্রচারণার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)’র সঙ্গে সমন্বয়ে দেশভিত্তিক ‘ইনভেস্টমেন্ট রোডশো’, সোর্সিং মিটিং, বিটুবি ম্যাচমেকিং কার্যক্রম এবং ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সেমিনার’ আয়োজন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন দূতাবাস ‘ডায়াসপোরা এনগেজমেন্ট’ কার্যক্রম জোরদার করেছে। রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং বিনিয়োগ প্রবাহে এসব উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনীতি একটি চলমান প্রক্রিয়া। অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এ প্রক্রিয়া বেগবান করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.