প্রভাত রিপোর্ট: রাজধানীতে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে একযোগে এই অভিযান শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে মগবাজার মোড় থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ।
তিনি জানান, জনদুর্ভোগ কমানো এবং পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান, রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন ওয়ার্কশপের বর্ধিতাংশ উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
অভিযান চলাকালে দেখা যায়, মগবাজার থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত ফুটপাত দখল করে থাকা দোকানের অংশ, সড়কে রাখা মোটরসাইকেল এবং অবৈধভাবে বসানো দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ট্রাফিক বিভাগের আটটি জোন একযোগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালাচ্ছে। জোনগুলো হলো, রমনা, লালবাগ, মতিঝিল, ওয়ারী, তেজগাঁও, মিরপুর, উত্তরা ও গুলশান। অভিযানের আওতায় রয়েছে সড়কের পাশে গড়ে ওঠা খাবারের দোকান, যানবাহন মেরামতের ওয়ার্কশপ, ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপ, পোশাক ও আসবাবপত্রের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ডিএমপি জানিয়েছে, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
এ ছাড়া সড়কের পাশে অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা বেশ কয়েকটি প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। দোকানের সামনের ফুটপাতে বিভিন্ন জিনিসপত্র রাখায় কয়েকজন দোকানিতে জরিমানা করা হয়। ফুটপাতে সিমেন্টের তৈরি বর্গাকার প্রতিবন্ধকতা রেখে পথচারী চলাচলে বাধা সৃষ্টিকারীদের শেষবারের মতো সতর্ক করে দেয় পুলিশ।
এই উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ বলেন, গত ২৩ মার্চ গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। গণবিজ্ঞপ্তি পেয়ে অনেকে ফুটপাত-সড়ক থেকে সরে গেছেন। এরপরও যাঁরা রয়ে গেছেন, তাঁদের সতর্ক করা হয়েছে। কাউকে কাউকে জরিমানাও করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) কাজী রোমানা নাসরিন জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ফুটপাত-রাস্তা দখল করে থাকা দোকানপাট উচ্ছেদ শুরু করেছেন তাঁরা। এই উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে। অভিযানের কিছুদিন পর আবার দোকানপাট বসে যায়, এ নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে রোমানা নাসরিন বলেন, ‘আমরা আবার উচ্ছেদ করব। এটি চলমান থাকবে।
রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, এ কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করা হবে।
ডিআইজি ট্রাফিক বলেন, ধোলাইখাল এলাকায় অধিকাংশই ব্যবসায়ী। ব্যবসা দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি জানান, আজ থেকে কেবল সতর্কতা নয়, সরাসরি অ্যাকশন শুরু হয়েছে এবং অভিযানে অনেক পণ্য জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘অভিযানে আমাদের সঙ্গে এক্সিকিউটিভ ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত রয়েছেন। আমরা যেসব পণ্য জব্দ করেছি সে বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন তারা।’ তিনি আরও জানান, ১ এপ্রিল শুরু হওয়া এ অভিযান ২, ৩ ও ৫ এপ্রিলও চলবে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও বেশি ভোগান্তিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং এটি চলমান থাকবে। এর আগে সকাল ১১টায় ধোলাইখাল এলাকায় সড়কের পাশে থাকা বিভিন্ন দোকান ও স্থাপনার অবৈধ অংশ অপসারণের মাধ্যমে অভিযান শুরু করে ডিএমপি। এতে নেতৃত্ব দেন ডিএমপির স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ডিএমপি এক গণবিজ্ঞপ্তিতে ১ এপ্রিল থেকে ফুটপাত উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানোর ঘোষণা দিয়েছিল।