প্রভাত রিপোর্ট: দেশের জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে বাজেট সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে এশীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়ানো ও বন্ধ কলকারখানা চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বেসরকারি খাত ও উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান।
অর্থমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এআইআইবি বাজেট সাপোর্ট দেবে। বিশেষ করে জলবায়ু সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে তারা বিনিয়োগ করবে। সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল খাতে অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, মোট বিদ্যুতের ২০-৩০ শতাংশ সৌর শক্তি থেকে উৎপাদন করা।
বৈঠকে ব্যবসায়ীরা ‘কস্ট অব ডুইং বিজনেস’ ও ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ সংক্রান্ত নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কিছু সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দেন এবং বাকিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুরোনো প্রকল্পগুলো সচল করেও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, দেশীয় সম্পদ ও আন্তর্জাতিক সহায়তার সমন্বয়ে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে জ্বালানির দাম বা আসন্ন বাজেটের আকার নিয়ে এখনই নির্দিষ্ট কিছু জানাননি তিনি।
অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
ব্যবসায়ীদের কী কী সংকট আছে সেসব বিষয় জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী- এ কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের নানা সংকটের কথা বিগত দিনে আমরা শুনে এসেছি, প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের মুখ থেকে তাদের সমস্যার কথা শুনতে চেয়েছিলেন। তাদের কথাগুলোর একটা নোট নেওয়া হয়েছে। অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে, অনেকগুলো পেন্ডিং আছে, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
বৈঠক শেষে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে, এ কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উদ্যোক্তাদের সরকারি সহায়তার কথা বলেছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বিদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য ই-ভিসা চালুর দাবি জানিয়েছেন- এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিমানবন্দরে ঝামেলা ছাড়াই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যেন সহজে বাংলাদেশে আসতে পারেন তার ব্যবস্থা নেওয়া। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো, এনবিআর সংস্কার এবং নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীদের ওপর করের বোঝা না চাপিয়ে করের আওতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, মাঝারি উদ্যোক্তাদের রফতানিতে উৎসাহিত করতে লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজীকরণ এবং আমদানি-রফতানি ও বাণিজ্যের গতি আনতে গভীর সমুদ্রবন্দর চালুর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ চাঙা করা এবং শিল্পখাতের বিদ্যমান সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে শনিবার শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হওয়া এ বৈঠককে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে নতুন এক সংলাপের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষ উদ্যোক্তারাও এতে অংশ নেন।