আজ
|| ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৯ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
নারীদের করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ করার দাবি উইমেন চেম্বারের
প্রকাশের তারিখঃ ৫ এপ্রিল, ২০২৬
প্রভাত রিপোর্ট: নারীদের জন্য ব্যক্তিগত আয়কর সীমা চার লাখ ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করার দাবি জানিয়েছে উইমেন চেম্বারগুলো। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিবেচনায় এনে এ দাবি তোলা হয়। রবিবার (৫ মার্চ) আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিডব্লিউসিসিআই) এবং উইমেন এন্টারপ্রেনারস নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউইএনডি) প্রতিনিধিরা এসব দাবি তুলে ধরেন। সভায় এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খানসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্কমুক্ত বা ন্যূনতম কর সুবিধা দেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি কৃষি ও প্রযুক্তিখাতে গ্রিন হাউস স্থাপন, শস্য সংরক্ষণ এবং আধুনিক কৃষিযন্ত্রপাতির ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া বর্তমানে ১১০ বর্গফুট পর্যন্ত শোরুমে যে ভ্যাট ছাড় রয়েছে, তা বাড়িয়ে ৩শ বর্গফুট করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ই-কমার্সে ডিজিটাল পেমেন্ট বা ওয়ালেটের মাধ্যমে লেনদেনে কর প্রণোদনা এবং নারী উদ্যোক্তাদের পরিচালিত ব্যবসার জন্য বিশেষ কর্পোরেট ট্যাক্স নির্ধারণের দাবিও তোলা হয়। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী যারা নতুন ব্যবসা শুরু করতে চান, তাদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স ফি ও নবায়ন ফি ৫০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বুটিক, বিউটি পার্লার ও ছোট দোকানের মতো সার্ভিস সেক্টরে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে চার শতাংশ করার দাবি জানানো হয়।
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান বলেন, এসএমই খাতে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করমুক্ত থাকলেও অনেক উদ্যোক্তা পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে এ সুবিধা পান না। বিষয়টি সহজ করতে এনবিআর কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে পুরুষ সদস্যরা করমুক্ত সুবিধা নিতে নারীদের নামে ব্যবসা দেখান। এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে প্রকৃত নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঘোষিত সুবিধা নিশ্চিত করতে উইমেন চেম্বারগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।
কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোর বিষয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, নারীদের জন্য কর্পোরেট কর অতিরিক্ত কমালে ‘মোরাল হ্যাজার্ড’ তৈরি হতে পারে, যেখানে পুরুষ সদস্যরা কর ফাঁকির উদ্দেশ্যে সম্পদ বা আয় নারীদের নামে স্থানান্তর করতে পারেন।
নারীরা অনলাইনে আয়কর ও ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে এনবিআরের পক্ষ থেকে নারীদের ভ্যাট, কাস্টমস ও আয়কর বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রণোদনা ও ফান্ড সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে তিনি জানান, এসব বিষয় অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতাভুক্ত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। তবে ট্যাক্স ও শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়গুলো এনবিআর গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। প্রাক-বাজেট আলোচনায় নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রীতি চক্রবর্তী, নাদিয়া বিনতে আমিনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.