আজ
|| ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১লা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
সরকার প্রতিটি শিশুর জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
প্রকাশের তারিখঃ ৫ এপ্রিল, ২০২৬
প্রভাত সংবাদদাতা, গাজীপুর : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, ‘আমাদের সরকার বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এবং আমরাও যাচ্ছি। বাদ যাবে না একটি শিশু। আপনারা জানেন হামের কারণে বাচ্চাদের জ্বর আসছে। তাদেরকে যদি আমরা দ্রুত শনাক্ত করতে পারি এবং দ্রুত চিকিৎসা দেই ইনশাল্লাহ ভয়ের কোনও কারণ থাকবে না। নতুন করে যেন বাচ্চাদের হাম না হয় সেজন্যই এই টিকা।’
রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মায়েদের ও এলাকাবাসীদেরকে বলবো হামের টিকা কার্যকর হওয়ার জন্য এই এলাকার ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রতিটা শিশুকে যদি আমরা টিকা দিতে পারি তাহলেই আমরা সবাই নিরাপদ থাকবো। যারা আজকে টিকা নিয়ে যাবেন বাড়ি গিয়ে পাড়া-প্রতিবেশী যারা আছে বা যাদের ওই বয়সী বাচ্চা আছে আপনারা তাদেরকে পাঠিয়ে দেবেন। অনুষ্ঠানে অন্য এলাকার যারা উপস্থিত আছেন আপনারদের এলাকার মহল্লায় এই টিকাদান কর্মসূচির প্রসার ঘটাবেন। যত বেশি মানুষ এই টিকার আওতায় আসবে আমরা প্রত্যেকেই তত বেশি নিরাপদ হবো।’ তিনি বলেন, ‘এই হামের জীবাণুটি খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়তে পারে। সে কারণে বেশি মানুষকে দিলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারবে না। ইতিমধ্যে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছি। আমাদের সরকার একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে। আমাদের টিকাদান বিষয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি আছে। আমরা একটি সার্ভিলেন্সের মাধ্যমে প্রতিদিন সারা দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছি, সেই তথ্যর ভিত্তিতে আমরা কোন কোন উপজেলায় বেশি আক্রান্ত সেগুলোকে শনাক্ত করছি। আমাদের বিশেষজ্ঞ কমিটি আমাদেরকে পরামর্শ দিচ্ছে। আমাদেরকে সহযোগিতা করছে ইউনিসেফ এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। আমরা তথ্য ও বিজ্ঞানের ভিত্তিতে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করছি যাতে কোথাও আমাদের কোনও ভুল না হয়।’
ডা. এম এ মুহিত বলেন, ‘আমরা কয়েকদিন পরেই ঢাকা সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন, বরিশাল সিটি করপোরেশনেও এই কর্মসূচি করবো। বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে, আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে যারা মাত্র ১৮ ঘণ্টার নোটিশে এই আয়োজন করেছে তাদেরকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
টিকার মজুত নেই উপস্থিত সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের আগ্রহ সবকিছু দেখছেন। আমি যেটা বলবো আপনারা (সাংবাদিকেরা) আমার চেয়ে ভালো বুঝেন। আজকের নিউজটার হেডলাইন এটাই থাকুক টিকাদান শুরু হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রতিটি শিশু যেন দ্রুত এই টিকা গ্রহণ করে। টিকার সরবরাহ নিয়ে আমাদের সরকার অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। যে জায়গাগুলোতে ঘাটতি আছে আমরা দায়িত্ব নিয়ে সেই ঘাটতিগুলো পূরণ করছি। কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কর্মসূচি চলবে কোনোরকম ঘাটতি থাকবে না। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। মূল বক্তব্য হচ্ছে, আমরা দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছি, কাজটা চলবে। ঘাটতি যেখানেই আছে আমাদের দায়িত্ব আমরা সেটা পূরণ করবো। আপনারা আমাদেরকে সহযোগিতা করুন। জনগণকে সম্পৃক্ত করার কাজে আপনাদের ভূমিকাটা আজকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আসুন আমরা আজকের দিনে অন্তত সেটাতেই মনোযোগ দেই।’
টিকাদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ডা. রাজেশ নরওয়াল, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ রিজিম ম্যানুয়েল, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) নূরুল করিম ভূঁইয়া, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শরিফ উদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীবৃন্দ।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.