• শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দুদকের মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি কমতে পারে ১.২ শতাংশ হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু ৭, নতুন রোগী আঠার শতাধিক সংসদের অধিবেশন থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট সারাদেশে অবৈধ মজুতকৃত ৪ লাখ ৬৯ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার অধ্যাদেশ পাস হলে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে স্থানীয় নির্বাচনের সিদ্ধান্ত: সিইসি জ্বালানি খাতে মাসে আড়াই থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন সংস্কার চায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী চাহিদা অনুযায়ী শ্রমবাজার খুলতে রাজি মালয়েশিয়া সংসদে ১২ বিল পাস: রহিত হল সুপ্রিম কোর্ট ও মানবাধিকারবিষয়ক অধ্যাদেশ
মুক্তাগাছার সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের অবসান

না ফেরার দেশে মনোনেস দাস

প্রভাত রিপোর্ট / ১০৪ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬

মো. দরাজ আলী, মুক্তাগাছা: ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা তথা গোটা জেলার সাংবাদিকতা জগতের এক প্রদীপ্ত নক্ষত্র, সত্যনিষ্ঠার মূর্ত প্রতীক এবং জনমানুষের প্রিয় কলম সৈনিক মনোনেস দাস আর নেই। মঙ্গলবার সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। তাঁর এই প্রয়াণে একটি কলম চিরতরে থেমে গেল, স্তব্ধ হয়ে গেল মুক্তাগাছার আপসহীন এক কণ্ঠস্বর।
​মনোনেস দাস কেবল একজন সংবাদকর্মী ছিলেন না; তিনি ছিলেন একাধারে একজন চিন্তাশীল লেখক, সাহিত্যিক এবং সত্যের উপাসক। সাংবাদিকতার কঠিন ও কণ্টকাকীর্ণ পথে তিনি দীর্ঘকাল নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন দেশ ও দশের সেবায়। জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে তিনি যেমন তাঁর মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন, তেমনি এক সময় ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী দৈনিক জাহান পত্রিকায় কাজ করে সাংবাদিকতার ভিত গড়েছিলেন। মুক্তাগাছার সাংবাদিকদের মধ্যে তিনি ছিলেন এক বটবৃক্ষের মতো, যাঁর ছায়ায় বেড়ে উঠেছে অনেক তরুণ সংবাদকর্মী।
​তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তা ছিল প্রবাদের মতো। তিনি সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলতে কখনো দ্বিধাবোধ করেননি। বস্তুনিষ্ঠতা ও সততা ছিল তাঁর পেশাগত জীবনের প্রধান ভূষণ। কোনো রক্তচক্ষু বা প্রলোভন তাঁকে তাঁর আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। এই আপসহীন মনোভাবের কারণেই সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন সমানভাবে গ্রহণযোগ্য ও শ্রদ্ধার পাত্র। দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা তিনি তাঁর লেখনীতে ফুটিয়ে তুলতেন নিপুণভাবে। মুক্তাগাছার প্রতিটি অলিগলি, মানুষ আর মাটির সাথে ছিল তাঁর নাড়ির টান।
​ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক ও সাদা মনের মানুষ। তিনি মুক্তাগাছা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক দপ্তর সম্পাদক প্রিতেশ দাসের বড় ভাই। তাঁর প্রয়াণে কেবল তাঁর পরিবার একজন অভিভাবককে হারায়নি, বরং মুক্তাগাছাবাসী হারিয়েছে তাঁদের এক পরম সুহৃদকে।
​আজ তাঁর চলে যাওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিক সমাজসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয় সাংবাদিককে শেষবারের মতো দেখতে হাসপাতালে এবং তাঁর বাসভবনে ভিড় জমান গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীরা। তাঁর এই শূন্যতা পূরণ হবার নয়। সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের আঙিনায় মনোনেস দাস তাঁর কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন যুগ যুগান্তর।
​আমরা এই মহান কলম সৈনিকের বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সকল সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা। আল্লাহ তাঁদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সইবার শক্তি দান করুন।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও