প্রভাত ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ কাজ করছে। তাঁরা এ ব্যাপারে খুশি হতে পারছেন না। ইসরায়েলি একটি সূত্র সিএনএনকে এমন তথ্য দিয়েছে। সূত্রটি বলেছে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পথ অনুসরণ করে যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে। তবে ইসরায়েল এটি অনিচ্ছা নিয়েই করবে। কারণ, তাদের এমন কিছু লক্ষ্য এখনো অপূর্ণ থেকে গেছে, যা তারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে অর্জন করতে চায়।
মার্চের মাঝামাঝি সময়ে সিএনএনের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলে ইসরায়েল হামলা বন্ধ করবে কি না। নেতানিয়াহু সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, ট্রাম্পই ‘নেতা’ এবং তিনি ‘তাঁর মিত্র’।
গত ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু সিএনএনকে বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, তাহলে আমি কি সে সিদ্ধান্তগুলোকে সম্মান করব? হ্যাঁ, করব।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়—ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এই ঘোষণা চুক্তির পথে সম্ভাব্য এক বাধা বা ‘কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নেতানিয়াহু তাঁর বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে এও যোগ করেছেন, দীর্ঘমেয়াদি নানা পদক্ষেপ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ইরান যাতে আর কখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক হুমকি হয়ে না উঠতে পারে, সে বিষয়েও তিনি ট্রাম্পকে সমর্থন দেবেন।
নেতানিয়াহুর বিবৃতির শেষ দুই লাইনে বলা হয়েছে, এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ওপর কার্যকর হবে না।
ইসরায়েলের জন্য এই মুহূর্তে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তারা দক্ষিণ লেবাননে তাদের অভিযানের গতি বাড়িয়েছে। হিজবুল্লাহর সঙ্গে একটি ‘বাফার জোন’ বা নিরাপদ অঞ্চল তৈরি করতে তারা সেখানে আরও বেশি স্থল সেনা মোতায়েন করছে।
ইসরায়েলের কাছে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের মতোই লেবানন ইস্যুটি সম্ভবত সমান গুরুত্বপূর্ণ, এমনকি তার চেয়েও বেশি।