আজ
|| ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
সংঘাত থামলেও বৈশ্বিক তেলের সংকট সহসাই কাটছে না
প্রকাশের তারিখঃ ৯ এপ্রিল, ২০২৬
প্রভাত ডেস্ক: ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার থেকে কমে ৯২ ডলারে নেমে এলেও জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের নাগালে ফিরতে এখনো দীর্ঘ সময় লাগবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বজুড়ে তেলের সংকট সহসাই না কাটার পেছনে বেশ কিছু কারিগরি ও কৌশলগত কারণ রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ও সরবরাহ জটিলতা: বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথটি কার্যত বন্ধ ছিল। চুক্তি অনুযায়ী এটি খুলে দেয়া হলেও তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।
ট্যাংকারের দূরত্ব: যুদ্ধের কারণে বিশাল আকৃতির তেলবাহী ট্যাংকারগুলো বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এই জাহাজগুলো ফের উপসাগরীয় অঞ্চলে ফিরে এসে তেল লোড করতে কয়েক সপ্তাহ সময় নেবে।
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা: মাত্র দুই সপ্তাহের এই ‘ভঙ্গুর’ যুদ্ধবিরতির মধ্যে বড় বিনিয়োগ বা জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি নিতে এখনো অনেক কোম্পানি দ্বিধাগ্রস্ত।
তেলকূপ চালুর কারিগরি চ্যালেঞ্জ: দীর্ঘদিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় এবং অনশোর স্টোরেজ (তীরবর্তী মজুতাগার) পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের অনেক তেল উৎপাদনকারী দেশ তাদের কূপগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল।
ধীর প্রক্রিয়া: একটি তেলকূপ বা রিফাইনারি ফের চালু করা বৈদ্যুতিক সুইচ টেপার মতো সহজ কাজ নয়। এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ কারিগরি প্রক্রিয়া।
স্থাপনার ক্ষতি: যুদ্ধের সময় অনেক জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, যা মেরামত করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব: গত ছয় সপ্তাহে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশ জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং জ্বালানি ব্যবহার কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে—যেমন বাসা থেকে কাজ, কর্মঘণ্টা কমানো, জ্বালানি রেশনিং এবং কারফিউ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকটের প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও এর প্রভাব পড়বে, যা ২০২৬ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এছাড়া যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত তেল-গ্যাস অবকাঠামো পুরোপুরি মেরামত করতেও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ফলে যুদ্ধবিরতি হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সূত্র: আল-জাজিরা
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.