আজ
|| ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৯ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
তেল সংকটে বন্ধের পথে হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি
প্রকাশের তারিখঃ ১১ এপ্রিল, ২০২৬
প্রভাত রিপোর্ট: রাজধানীর হাতিরঝিলে যাতায়াতের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম ওয়াটার ট্যাক্সি সার্ভিস। গত ১০ বছর ধরে দৈনিক ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ নিরবচ্ছিন্নভাবে এই সেবা পেয়ে আসছে। গণপরিবহনের চেয়ে যাত্রীরা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই বাহনে। কিন্তু এখন পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল না পাওয়ায় অর্ধেকের বেশি ট্রিপ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে যেকোনও সময় এই সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওয়াটার ট্যাক্সি পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তেলের অভাবে এখন ‘রেশনিং’ পদ্ধতিতে ট্যাক্সি চালানো হচ্ছে। চারটি ট্যাক্সি ইতোমধ্যে বিকল হয়ে পড়ে আছে। বাকিগুলো শুধু যাত্রীর সংখ্যা দেখে চালানো হচ্ছে। তেল সংকট কাটিয়ে উঠতে না পারলে তারা এই সেবা বন্ধ করতে বাধ্য হবেন।
সরেজমিন হাতিরঝিলের রামপুরা ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, তেলের অভাবে আগের মতো স্বাভাবিক নিয়মে চলছে না ওয়াটার ট্যাক্সি। আগের তুলনায় ট্যাক্সির ট্রিপ কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে যাত্রীরা টিকিট কেটে দীর্ঘ সময় ধরে ট্যাক্সির জন্য অপেক্ষা করছেন। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন নিয়মিত যাতায়াত করা যাত্রীরা।
রামপুরা থেকে নিয়মিত গুলশান যাওয়া যাত্রী আখতার হোসেন বিপ্লব ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘আগে ১০ মিনিট পরপর ট্যাক্সি ছাড়তো। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে বসে আছি, এখনও ছাড়ছে না। এমন ভোগান্তি কখনও পোহাতে হয়নি। এভাবে চললে এই ওয়াটার ট্যাক্সির জনপ্রিয়তা হারাবে।’
সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মিলি আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অন্যান্য যানবাহনের তুলনায় ওয়াটার ট্যাক্সিতে চলাচল অনেক আরামদায়ক। আগে সময়মতো ট্যাক্সি ছাড়তো। পাঁচ-ছয় জন যাত্রী হলেই ট্যাক্সি ছেড়ে দিতো। কিন্তু এখন ১৫ জন ওঠার পরও ছাড়ে না। আরও যাত্রীর আশায় চালক বসে থাকেন। ট্যাক্সিতে বসেই আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, তবুও ছাড়ে না। তবে ভাড়া আগের মতোই আছে।’
রামপুরার বাসিন্দা ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ‘আমার অফিস গুলশানে। প্রতিদিন ওয়াটার ট্যাক্সিতে করেই অফিসে যাই। এটা আমার জন্য অন্যান্য পরিবহনের চেয়ে সুবিধাজনক। কিন্তু এখন আর আগের মতো স্বাচ্ছন্দ্যে যেতে পারি না। অনেক সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়। মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে এই সেবা পুনরায় নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখা উচিত।
হাতিরঝিল ওয়াটার ট্যাক্সি সার্ভিসের জেট ইন-চার্জ মো. জয়নাল আবেদীন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আগে ১০ মিনিট পর পর আমরা বোট ছাড়তে পারতাম। ৮-১০ জন লোক হলেই আমরা বোট ছাড়তে পারতাম। কিন্তু এখন তেলের সংকটের কারণে আমরা সেটা কাভার করতে পারি না। আগে দৈনিক ৩৫০ থেকে ৪০০ লিটার তেল পেতাম সেখান এখন পাই মাত্র ২০০ লিটার। রিজার্ভে তেমন তেল নাই। এভাবে আসলে বোট চালু রাখা কঠিন।’
ওয়াটার ট্যাক্সি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান করিম গ্রুপের অপারেশনস ম্যানেজার মোরশেদুল আলম বলেন, ‘২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে এই ওয়াটার ট্যাক্সি সার্ভিস চালু করা হয়েছিল। তখন থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে এই ট্যাক্সি চলছে। কিন্তু এখন তেলের অভাবে আমরা আগের মতো স্বাভাবিক নিয়মে চালাতে পারছি না। আগের তুলনায় অর্ধেক ট্রিপ চালাতে পারছি। আয়ও কমে গেছে। আগের মতো ডিজেল সরবরাহ না হলে এই সার্ভিসটি বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না।’
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.