প্রভাত ডেস্ক: ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিদের বৈঠক। কোনো শান্তি বা সমঝোতা চুক্তি ছড়াই ফিরে যাচ্ছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। বৈঠকের ব্যর্থতা নিয়ে ইরানের প্রতিনিধি দল এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো সংবাদ সম্মেলন করেনি। তবে ইরানি প্রতিনিধি দলের সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদামাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে—হরমুজ প্রণালি, পরমাণু প্রকল্পসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মত পার্থক্যের কারণেই ব্যর্থ হয়েছে বৈঠক। “হরমুজ প্রণালি, ইরানের শান্তিপূর্ণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষী শর্ত এ বৈঠকের ব্যর্থতার প্রধান কারন। যুদ্ধে তারা যা যা অর্জন করতে পারেনি, আলোচনার মাধ্যমে সেসব তারা দখল করতে চেয়েছিল”, ফার্স নিউজকে বলেছে ইরানি প্রতিনিধি দলের সূত্র।
উল্লেখ্য,ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।
সংলাপ ও কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের জন্য গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১১ এপ্রিল সংলাপে বসেছিলেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা, যা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর পরবর্তী বৈঠকের বিষয়ে অনাগ্রহ দেখিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত দ্বিতীয় দফায় কোনও আলোচনায় বসার পরিকল্পনা তাদের নেই। রবিবার (১২ এপ্রিল) ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে ফার্স নিউজ জানায়, যতক্ষণ না পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র একটি যুক্তিসঙ্গত চুক্তিতে সম্মত হচ্ছে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালির স্থিতাবস্থায় কোনো পরিবর্তন আসবে না।
ইসলামাবাদে সারারাত ধরে চলা দুই দেশের মধ্যকার এই দীর্ঘ আলোচনা যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ফলাফলকে ইরানের জন্য ‘খারাপ খবর’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। পাল্টা জবাবে ইরানের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আতাউল্লাহ মোহাজেরানি ফার্স নিউজকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এর চেয়েও খারাপ খবর অপেক্ষা করছে।
মোহাজেরানি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল, মধ্যস্থতাকারীর ব্যবস্থা করেছিল এবং আলোচনার জন্য ইরানের দেওয়া ১০টি শর্ত মেনে নিয়েছিল। কিন্তু তারা যুদ্ধক্ষেত্রে যা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে, আলোচনার টেবিলে বসে তা হাসিল করার চেষ্টা করেছে।