আজ
|| ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
মার্চে এলসি নিষ্পত্তি কমেছে ২৬.৬ শতাংশ
প্রকাশের তারিখঃ ২১ এপ্রিল, ২০২৬
প্রভাত অর্থনীতি: দেশে নতুন ব্যবসা ও বিনিয়োগ কমে যাওয়ার কারণে চলতি বছরের মার্চে ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তি কমেছে ২৬.৬০ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাছাড়া ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দর আবারও কমতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে ডলারের দাম ১২৩.১০ টাকার আশেপাশে থাকলেও সোমবার বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক ১২২.৯০ থেকে ১২২.৯৮ টাকায় ডলার লেনদেন করেছে।
ব্যাংকগুলো মার্চে এলসি নিষ্পত্তি করেছে ৪.৬৬ বিলিয়ন ডলার, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মার্চে দেশে আমদানি কমেছে।
এলসি নিষ্পত্তি হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমদানিকারকের ব্যাংক কর্তৃক বিক্রেতা বা রপ্তানিকারকের কাছে পণ্যের বিপরীতে শর্তানুযায়ী অর্থ পরিশোধের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া। বিক্রেতা যখন চুক্তির সব শর্ত মেনে সঠিক কাগজপত্র ব্যাংকে জমা দেন, তখন ব্যাংক তা যাচাই করে আমদানিকারকের পক্ষে বিক্রেতাকে মূল্য পরিশোধ করে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আমদানি এলসি খোলা ও নিষ্পত্তির ওপর এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দেশে নতুন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড কমেছে। নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা বিনিয়োগ বাড়লে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি বেড়ে যায়। তাছাড়া মার্চে যুদ্ধের কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এলসি খোলা হলেও পণ্য নিয়ে জাহাজ কবে দেশে পৌঁছাবে, তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। এছাড়া যুদ্ধের কারণে ডলারের দামে সম্ভাব্য অস্থিরতার ঝুঁকি এড়ানোর জন্যও অনেকে এলসি খোলেননি।
পূবালী ব্যাংক পিএলসি-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, রপ্তানি কমে যাওয়া এখানে বড় ভূমিকা রেখেছে। 'রপ্তানি কমার কারণে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার পরিমাণ কমে যায়। সেজন্য এলসি নিষ্পত্তি কমেছে।' তিনি আরও বলেন, মার্চে যেসব এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে, সেগুলো খোলা হয়েছে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে। সে সময় রপ্তানি অনেক কম ছিল।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, যুদ্ধের কারণে মার্চ মাস ছিল প্রচণ্ড অনিশ্চয়তায় ভরা। 'যদিও আশা ছিল ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিনিয়োগে ঝুঁকবে সবাই, তবে সেটা হলো না। তাছাড়া পণ্যবাজার কোন দিকে যাবে, ডলারের দরের অবস্থা কী দাঁড়াবে, পণ্য ঠিকমতো আসবে কি না—এরকম নানা বিষয় নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল,' বলেন তিনি।
এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, 'সেদিন বলা হলো হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হলো, অথচ পরের দিন সেই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে পারে নাই। অর্থাৎ পুরো অবস্থাটাই অনিশ্চিত।'
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মার্চ মাসে এলসি খোলা কমেছে ১০ শতাংশের বেশি। এ মাসে ৫.৭৭ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৬.৪৬ বিলিয়ন ডলার।
একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, মূলত দেশে নতুন বাণিজ্য কমে যাওয়ার কারণে এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে। এখন এলসি যা খোলা হচ্ছে, তা বেশিরভাগ সরকারি; বেসরকারি খাতে এলসি কম খোলা হচ্ছে। তাছাড়া দেশের বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধিও ধীর হয়ে গেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬.০৩ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে সোমবার পর্যন্ত তিন দফায় নিলামের মাধ্যমে ১৮০ মিলিয়ন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে বোঝা যায়, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার সরবরাহ ভালো।
একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে পেমেন্ট চাপ কিছুটা রয়েছে। আবার মার্কেটে ডলার সরবরাহ রয়েছে, আমদানি করার চাপও খুব একটা বেশি নেই। এজন্য ডলারের দর কিছুটা কমেছে।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.