• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং, মব কালচার ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে সরকার হজে খরচ কমাতে বিমান ভাড়া হ্রাস : ধর্মমন্ত্রী বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানো হয়েছে : শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ ২৪ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ, গরমে হাঁসফাঁস জনজীবন মোবাইল ইউনিটে গ্রামেই হবে হৃদরোগের জটিল চিকিৎসা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ‘গুপ্ত’ ও চট্টগ্রামে সংঘর্ষ ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ জনগণের কাছে যান, শহর ঘুরে দেখুন: সিটি প্রশাসকদের প্রতি প্রতিমন্ত্রী চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ও বিশ্বস্ত বন্ধু: স্পিকার
আলোচনা সভায় বক্তারা

জ্বালানি খাতে টেকসই সমাধানে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি

প্রভাত রিপোর্ট / ১৬ বার
আপডেট : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: জ্বালানি খাতে টেকসই সমাধান চাইলে কেবল নীতিগত পরিবর্তন নয়, পুরো কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে থেকে কাজ করলে ভিন্ন ফল আসবে না। বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘জ্বালানি নিরাপত্তা ও জনবান্ধব জ্বালানিনীতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজক গণসংহতি আন্দোলন।
আলোচনা সভায় কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, জ্বালানি খাতের বর্তমান কাঠামো এমনভাবে দাঁড়িয়েছে যে এখানে সংকটের সময় সুবিধাভোগী গোষ্ঠীগুলোকে সন্তুষ্ট রাখার প্রবণতা কাজ করে। ফলে সাধারণ ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন, কিন্তু কাঠামোগত সমস্যাগুলো অক্ষত থেকে যায়।
‘কাঠামোগত দুর্নীতি’র প্রসঙ্গ তুলে ধরে শামসুল আলম বলেন, জ্বালানি খাতে শুধু সরকারি সংস্থা নয়; বরং পেট্রোলপাম্পের মালিক, এলপিজি ব্যবসায়ীসহ একটি বড় গোষ্ঠী এই ব্যবস্থার সুবিধাভোগী। এই কাঠামো রাষ্ট্রব্যবস্থার ভেতরেই গেঁথে গেছে। ফলে এটিকে ভাঙতে না পারলে যেকোনো সরকারই শেষ পর্যন্ত এই ব্যবস্থার অংশ হয়ে পড়বে।
জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সাশ্রয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা। তিনি বলেন, নীতিনির্ধারণে এখনো শুধু তাৎক্ষণিক খরচের হিসাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, দীর্ঘমেয়াদি সাশ্রয় বা কৌশলগত লাভকে নয়। প্রকল্পের ‘ইন্টারনাল রেট অব রিটার্ন’ হিসাব করলেও পরিবেশগত ও সামাজিক ক্ষতির বিষয়গুলো উপেক্ষিত থাকে।
জ্বালানিসংকট সমাধানে তিন মেয়াদে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসান আশরাফ। তিনি বলেন, স্বল্প মেয়াদে প্রয়োজন জ্বালানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা, অপচয় কমানো। মধ্য মেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরশক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকৃত জ্বালানিব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আর দীর্ঘ মেয়াদে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো উন্নয়ন মডেল পুনর্বিবেচনা করা।
হাসান আশরাফ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন এক জ্বালানিব্যবস্থা, যা পরিবেশবান্ধব এবং যা মানুষের মধ্যে বৈষম্য কমাবে। সংকট সমাধানে আমাদের কেবল প্রযুক্তির দিকে তাকালে চলবে না, তাকাতে হবে মানুষের টিকে থাকার সক্ষমতা এবং ইনক্লুসিভ পলিসির দিকে। জ্বালানি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।’ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু। সঞ্চালনায় ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গোলাম মোস্তফা। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার, ফিরোজ আহমেদ প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও