আজ
|| ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৯ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
এবার দায়িত্ব ছাড়লেন ইতালির রেফারি–প্রধান
প্রকাশের তারিখঃ ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
প্রভাত স্পোর্টস: ইতালির ফুটবল নিয়ে নেতিবাচক খবরের যেন শেষ নেই! টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে উঠতে না পারার ব্যর্থতায় দেশটির ফুটবলপ্রধান ও কোচকে দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছে। এ বছর ইতালির কোনো দল চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি বলে ক্লাব ফুটবল নিয়েও সমালোচনা চলছে। এরই মধ্যে নতুন ঘটনা, এবার দেশটির শীর্ষ দুই লিগ সিরি ‘আ’ ও সিরি ‘বি’র রেফারিদের প্রধান তাঁর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
এখানে অবশ্য মাঠের ব্যর্থতার সরাসরি সংযোগ নেই। মিলানের প্রসিকিউটররা ‘স্পোর্টিং জালিয়াতি’র (খেলাবিষয়ক প্রতারণা) অভিযোগে তদন্ত শুরু করার পর সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গিয়ানলুকা রোচ্চি নামের এই রেফারি। শনিবার রোচ্চি নিজেই ইতালির শীর্ষ দুই লিগের ম্যাচে রেফারি নিয়োগের দায়িত্ব থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রোচ্চি বলেন, ‘এই কষ্টকর ও কঠিন সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হলো বিচারিক প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্নে চলতে দেওয়া। আমি নিশ্চিত, এই প্রক্রিয়া শেষে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হব।’একই অভিযোগে ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) প্রধান আন্দ্রেয়া গেরভাসোনির বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।
রোচ্চির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অন্য অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের সঙ্গে মিলে গত বছরের এপ্রিলে ইন্টার মিলান-বোলোনিয়া ম্যাচে রেফারি হিসেবে আন্দ্রেয়া কোলোম্বোকে নিয়োগে প্রভাব রেখেছিলেন। কারণ, সেই রেফারি নাকি ‘ইন্টারের পছন্দের’ রেফারি ছিলেন। ওই ম্যাচে শেষ মুহূর্তে রিকার্ডো ওরসোলিনির গোলে ১-০ ব্যবধানে জেতে বোলোনিয়া।
আরেক অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের মার্চে উদিনেসের ১-০ গোলে পার্মার বিপক্ষে জেতা ম্যাচে একটি হ্যান্ডবলের ঘটনায় মাঠের রেফারিকে মনিটরে গিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য চাপ দেন রোচ্চি। এ জন্য তিনি নাকি ভিএআর কর্মকর্তাকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন।
সেই ম্যাচে মাঠের রেফারি ফাবিও মারেস্কা এবং ভিএআরের দায়িত্বে থাকা দানিয়েল পাতের্না—কেউই ঘটনাটিকে পেনাল্টি দেওয়ার মতো মনে করেননি। তবে ভিএআর কক্ষের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ক্যামেরার বাইরে কারও সঙ্গে কথা বলার পরই পাতের্না মনিটর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলেছেন, ‘এটা পেনাল্টি।’
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ভিএআর কক্ষের দরজায় জোরে ধাক্কা দিয়ে রোচ্চি নিজেই নাকি পাতের্নার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন, যাতে তিনি হ্যান্ডবলের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করেন। পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকেই ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন ফ্লোরিয়ান থাউভিন।
ইতালিতে ‘স্পোর্টিং জালিয়াতি’ একটি ফৌজদারি অপরাধ, যার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে ছয় বছরের কারাদণ্ড। এ ছাড়া তদন্ত-সংক্রান্ত নথিপত্র পাঠানো হবে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের কাছে। সংস্থাটির নিজস্ব প্রসিকিউটররাও এ ঘটনায় আলাদা করে তদন্ত শুরু করতে পারেন।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.