আজ
|| ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৯ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
সপ্তাহে ১৫০ মাইল ট্রেনিং: কেনিয়ান সাওয়ের বিশ্ব রেকর্ডের রহস্য
প্রকাশের তারিখঃ ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
প্রভাত স্পোর্টস: সেবাস্তিয়ান সাওয়ে এখন বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের আলোচিত নাম। রবিবার লন্ডনের ম্যারাথনে ১ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে ফিনিশিং লাইন ছুঁয়েছেন। প্রথম দৌড়বিদ হিসেবে দুই ঘণ্টার নিচে ম্যারাথন শেষ করেছেন এই কেনিয়ান। আর এই বিশ্ব রেকর্ডে মূল শক্তি ছিল সপ্তাহে ১৫০ মাইল দৌড়, ইতিহাসের সবচেয়ে হালকা শু পরা এবং রুটি ও মধু দিয়ে সকালের নাশতা করা। এই কেনিয়ান দৌড়বিদ ও তার দল এই সাফল্যের রহস্য জানিয়েছেন।
ইংল্যান্ডের রাজধানীতে এই বিশ্ব রেকর্ডের সাক্ষী হয়েছেন ৮ লাখের মতো দর্শক। ৩১ বছর বয়সী সাওয়েকে দেখেছেন অতিমানবীয় এক কীর্তি গড়তে। দৌড় শেষে এই কেনিয়ান বলেছেন, একটি অবিস্মরণীয় মুহূর্ত যে তিনি তৈরি করেছেন, সেটা বুঝতে দেরি হয়নি। তিনি বলেন, ‘লন্ডনে আমি ইতিহাস তৈরি করেছি। আমি প্রমাণ করেছি যে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। এটা এমন একটা ব্যাপার যা চিরকাল আমার হৃদয়ে থেকে যাবে। গতি অনেক থাকা সত্ত্বেও আমি নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার সাহস করেছি। আমি একটুও বিচলিত হইনি, কারণ এটার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। দর্শকরা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে কারণ তারা উল্লাস করছিল এবং আমার নাম ধরে ডাকছিল, তাতে নিজেকে শক্তিশালী মনে হচ্ছিল। আজকের বিশ্ব রেকর্ড তাদের কারণেই হয়েছে।’
সাওয়ের কোচ ক্লাউদিও বেরারদেল্লি তার অ্যাথলেটকে ‘বিশেষ একজন’ বলে অভিহিত করেছেন। তার শিষ্যের সাফল্যের পেছনে রহস্যও ফাঁস করলেন তিনি, ‘গত ছয় সপ্তাহে সে গড়ে ২০০ কিলোমিটার দৌড়েছে, এক সপ্তাহের বেশি সময় তার দৌড় ছিল ২৪১ কিলোমিটারে (১৫০ মাইল)।’ বেরারদেল্লি বললেন, ‘আমি জানতাম সে বর্লিনের জন্য ছিল দুর্দান্ত। কিন্তু কন্ডিশনের কারণে নিজেকে মেলে ধরতে পারছিল না। কিন্তু লন্ডনের আগে যেভাবে সে দৌড়াচ্ছিল, তা দেখে আমার মনে হচ্ছিল, বিশেষ কিছু হতে চলেছে।’
বেরারদেল্লি আরও বলেন, নতুন এডিডাস প্রো ইভো ৩এস জুতো সাওয়ের উপকার করেছে। এই জুতো শুধু দ্রুততর নয়, ১০০ গ্রামের চেয়ে কম ওজনের সুপার শু। সাওয়ে মরটেনের কার্বোহাইড্রেট জেলও ব্যবহার করেছেন, যে কারণে শেষ দিকে গিয়ে তিনি শক্তিশালী অনুভব করেছেন। তিনি যোগ করেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই যে শু ও সঠিক পুষ্টির কারণে আমরা এখন ম্যারাথন দৌড়ের নতুন যুগে। এডিডাস ও মর্টেনের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ, তারা বহুবার কেনিয়ায় এসে আমাদের সমর্থন করেছে, কারণ আমাদের সবার মমেন হয়েছিল সেবাস্তিয়ান শুধু ভালোই নয়, সে বিশেষ একজন।’তিনি বললেন, ‘অবশ্যই শারীরিকভাবে সাওয়েকে ভালো হতে হবে। কিন্তু মনোভাব ও চরিত্রের কারণে সবকিছু নিখুঁতভাবে হয়েছে। আমি এখনো সাওয়েকে চেনার চেষ্টা করছি। সে অসাধারণ একজন মানুষ। তার মধ্যে ইতিবাচক শক্তি আছে। কিন্তু একই সঙ্গে সে বিনয়ী।’ সাওয়েকে যতই দেখেছেন, ততই অবাক হয়েছেন বেরারদেল্লি, ‘২২ বছর ধরে আমি কেনিয়ায় কোচিং করাচ্ছি। আমি ভেবেছিলাম আমার সব দেখা শেষ। কিন্তু তারপর সেবাস্তিয়ান আমাকে এমন কিছু দেখাল যেটা আমি ভেবেছিলাম প্রায় অসম্ভব।’
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.