আজ
|| ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
শেরপুরের ঝিনাইগাতী সীমান্তে বন্ধ হচ্ছে না মাদক পাচার
প্রকাশের তারিখঃ ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
খোরশেদ আলম, শেরপুর : বন্ধ হচ্ছে না শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তে মাদক পাচার। এ অভিযোগ এলাকাবাসীর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও। অভিযোগে প্রকাশ,ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকাগুলোর সীমান্ত পথে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে মাদক পাচার করে আসছে চোরাকারবারি । নলকুড়া ইউনিয়নের হলদীগ্রাম, সন্ধ্যাকুড়া,গোমড়া,রাংটিয়া, সালচুড়া ফাকরাবাদ ও কাংশা ইউনিয়নের তাওয়াকোচা, গরুচরনদুধনই, পানবর, ছোটগজনী,বড়গজনী,গান্ধীগাঁও হালচাটি, নকশীসহ বিভিন্নগ্রামের ভারতের সীমান্ত পথে অবাধে মাদক পাচার করে আসছে শতাধিক পাচারকারি । তারা দিন রাতে ভারত থেকে লাখ লাখ টাকা মুল্যের মাদকদ্রব্য পাচার করে আসছে। এসব মাদকপাচারকারিদের মধ্যে রয়েছে নারী -পুরুষ,যুবক ও কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশাদার মানুষ । সীমান্তের এসব পাহাড়ি গ্রামগুলোতে প্রায় ঘরেঘরেই রয়েয়ে মাদক ব্যবসায়ী। পাচাকৃত এসব মাদক কাভার্ডভ্যান,ট্রাক,দুরপাল্লার বাস,সিএনজি, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে। শেরপুর সীমান্তের মাদক পাচারনিয়ন্ত্রণসহ আইনশৃংঙ্খলা রক্ষায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ৮ টি বিজিবি ক্যাম্প রয়েছে । সীমান্ত এলাকায় চলছে দিনেরাতে বিজিবি সদস্যদের টহল পরিচালনা। তবে সীমান্তে রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারন মানুষের সহযোগিতার অভাবে বিজিবি জোয়ানরা মাদক পাচার প্রতিরোধে হিমসিম খাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে । স্থানীয়রা জানান শতশত চোরাকারবারি ভারত থেকে চোরাই পথে মদক পাচার করে এসব মাদকদ্রব্য কভারভ্যান, সিএনজি, ইজিবাইক, ট্রাক দুরপাল্লার বাসসহ বিভিন্নভাবে জেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঁচার করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, জেলার ৫২ টি ইউনিয়নের হাট- বাজার, গ্রামে গঞ্জে পাড়া মহল্লায় সর্বত্রই মাদকদ্রব্যের সয়লাব হয়ে পড়েছে । যত্রতত্র হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। ফলে তরুণ ও যুব সমাজ বিপদগামী হওয়ার পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। মাঝে মধ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও পাচারকারিদের আটকও করা হচ্ছে। মামলাও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মাদক পাচার বন্ধ হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, মামলা দেয়ার পর মাদক পাচারকারিদের আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। কিন্তু জামিনে ছাড়া পেয়ে এসে আবারও শুরু করছে মাদক পাচার। এভাবে দীর্ঘ দিন ধরে সীমান্ত পথে চলছে জমজমাট মাদক পাচার। ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্ত পথ মাদক পাচারের ট্রানজিট রোড।
উপজেলার হলদীগ্রাম সীমান্ত ফাঁড়ির নায়েক সুবেদার মো,শফিকুল ইসলাম বলেন , গত এক বছরেরও বেশি সময়ে পুরো সীমান্তে প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। বহু মাদককারবারিকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এদের জেলহাজতেও পাঠানো হয়েছে। কিন্ত মাদককারবারিরা আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে এসে আবারও শুরু করেছে মাদক পাচার। তিনি আরো বলেন, মাদক পাচার প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের কোন সহযোগিতা তারা পাচ্ছেন না। এছাড়াও সীমান্তের রাস্তা ঘাটের বেহাল দশার কারনে মাদক পাচার প্রতিরোধে তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আমিরুল ইসলাম বলেন, গত এক বছরের অধিক সময়ের মধ্যে পুলিশী অভিযান চালিয়ে প্রায় কোটি টাকা মুল্যের মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক পাচারকারিদের নামে মামলাও দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চোরাকারবারিরা কয়েকদিনের মধ্যে জামিনে ছাড়া পেয়ে এসে আবারও প্রাকাশ্যেই মাদক পাচার শুরু করছে। অনেক মাদক পাচারকারির নামে ৫- ৭ টি থেকে শুরু করে ১৫ - ২০টি করে মাদক মামলা রয়েছে। অথচ জামিনে ছাড়া পেয়ে পেয়ে এসে আবারও প্রকাশ্যেই চালিয়ে আসছে মাদক পাচার। নলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুকুনুজ্জানের বলেন, এলাকাবাসীর মধ্যে সচেতনতা না আসলে মাদক পাচার বন্ধ করা সম্ভব না।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.