• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৩ অপরাহ্ন

ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পশ্চিম তীর দখলের প্রতীকী প্রস্তাব অনুমোদন

প্রভাত রিপোর্ট / ৭৫ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫

প্রভাত ডেস্ক : ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’ অধিকৃত পশ্চিম তীরকে নিজেদের অংশ হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রতীকী প্রস্তাব পাস করেছে। যদিও এটি কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না, তবে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিতপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, বুধবার (২৩ জুলাই) পার্লামেন্টে এ প্রস্তাবটি ৭১-১৩ ভোটে গৃহীত হয়। এতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ‘ইহুদি, সামারিয়া ও জর্ডান উপত্যকায়’ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করবে—এই অঞ্চলগুলোই মূলত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ড, যার মধ্যে পশ্চিম তীর অন্যতম।
প্রস্তাবের পক্ষে দাঁড়িয়ে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করা হলে রাষ্ট্রটির নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে এবং ‘ইহুদি জনগণের তাদের নিজ ভূমিতে শান্তিপূর্ণ বসবাসের মৌলিক অধিকারকে’ আর কেউ প্রশ্ন করতে পারবে না।
প্রস্তাবটি উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। তবে প্রস্তাবটি প্রথম প্রণয়ন করেছিলেন কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ, যিনি নিজেও পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে বসবাস করেন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ওই অঞ্চলের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা ও পূর্ব জেরুজালেম ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে এসব অঞ্চলের দখলকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এমনকি পশ্চিম তীরে নির্মিত কিছু বসতি ইসরায়েলের নিজস্ব আইনেও অবৈধ।
বর্তমানে পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি এবং পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বাস করেন। ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব এই অঞ্চলসহ গাজা ও পূর্ব জেরুজালেমকে নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের অংশ করে নিলে দুই-রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধান কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি নেতারা। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ডেপুটি হুসেইন আল-শেইখ বলেন, ‘এই প্রস্তাব সরাসরি ফিলিস্তিনিদের অধিকারের ওপর আঘাত। এটি শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দেয়।’
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘ইসরায়েলের এই একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন এবং ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের স্বীকৃত মর্যাদার সম্পূর্ণ লঙ্ঘন।’
ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ‘এটি উপনিবেশবাদী এক পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে পশ্চিম তীরে বর্ণবাদী বা ‘আপারথেইড’ শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এটি জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রস্তাব, এমনকি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) উপদেষ্টা রায়েরও অপমান।’
তারা আরও সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলের এই ধরনের উদ্যোগ দুই-রাষ্ট্র ভিত্তিক শান্তিপূর্ণ সমাধানকে ধ্বংস করছে এবং বসতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাস্তবে প্রতিদিনই এই দখল কার্যকর করে চলেছে।
গাজায় চলমান ভয়াবহ হামলার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা বেড়েছে। ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামগুলোতে ইসরায়েলি সেনাদের বারবার অভিযান, গ্রেপ্তার, ঘরছাড়া মানুষ এবং প্রাণহানির ঘটনাও বেড়েছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর সহায়তায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরাও ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তির ওপর হামলা জোরদার করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও