• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ন

নির্বাচনে ‘এমএমপি’ পদ্ধতির প্রস্তাব খেলাফত মজলিসের

প্রভাত রিপোর্ট / ৮৮ বার
আপডেট : শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০২৫

প্রভাত রিপোর্ট: নতুন নির্বাচন পদ্ধতির প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। বিদ্যমান পদ্ধতি এবং সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনব্যবস্থায় নানা দুর্বলতা তুলে ধরে দলটির উত্থাপন করা নতুন পদ্ধতির নাম মিক্সড মেম্বার পিআর (এমএমপি)।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘জনমতের প্রতিফলনে কার্যকর নির্বাচন ব্যবস্থা মিক্সড মেম্বার পিআর (এমএমপি)’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে নতুন এ পদ্ধতি উপস্থাপন করা হয়। গোলটেবিলের আয়োজন করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটির আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হকের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকের শুরুতে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতদের প্রতি শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয় এবং বৈঠক শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নানারকম নির্বাচনব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের দেশে বর্তমানে কার্যকর রয়েছে এফপিটিপি পদ্ধতি। সম্প্রতি বিভিন্ন মহল ও রাজনৈতিক দল ও পক্ষসমূহ পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের দাবি তুলেছে। উভয় পদ্ধতির নানারকম দুর্বলতা ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণমানুষের মতামতের প্রকৃত প্রতিফলনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তৃতীয় পদ্ধতি তথা এমএমপি প্রস্তাব করেছে।’
সভায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, পিআর ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হলে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে। সংবিধান পরিবর্তন করার ম্যান্ডেট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেই। তাই বিদ্যমান নির্বাচনি ব্যবস্থায় নির্বাচন করে পরে সংবিধান সংশোধন করে নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন করতে হবে। খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ৪০টি দেশে পুরোপুরি পিআর পদ্ধতি আছে। কিছু দেশে মিক্সড পদ্ধতি আছে। যারা বলছেন, পিআর বোঝেন না, এটা তাদের অজ্ঞতা।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমরা নতুন ব্যবস্থা চাই। পুরোনো ব্যবস্থায় থাকা খুব দুঃখজনক। নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি অথবা মিক্সড পদ্ধতিতে যেতে পারি। তবে সংস্কার বিষয়ে সবার একমত হতে হবে।’
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমাদের প্রস্তাবনা হলো, সংসদের বিদ্যমান আসন থাকবে। এর বাইরে সংরক্ষিত আরো ১০০ আসন যুক্ত হবে, যেখানে সব ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠীর মানুষের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। বিদ্যমান ৩০০ আসনের মধ্যে ২০০ আসন আগের পদ্ধতিতে থাকুক। বাকি ১০০ আসনে পিআর হোক। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলন ২০০৮ থেকে পিআর পদ্ধতির আলোচনা করে আসছে। বিশ্বের ৫৪টি দেশে এটি চালু আছে। কোনো দল এটি না বুঝলে তাদের অজ্ঞতা। তাই বলে এই পদ্ধতি নিয়ে বিদ্রুপ করার সুযোগ নেই। নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার করতেই হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. ফয়জুল হক বলেন, বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতিতে আলেমরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এই পদ্ধতি থাকলে তারা যতই জোট করুন, বেশি আসন পাবেন না। পিআর হলে অনেক বেশি আসন পাবেন। তিনি আরো বলেন, যারাই আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতি দেখাবে, তারাই দেশ এবং গণঅভ্যুত্থানের শত্রু।
ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী বলেন, পিআর যৌক্তিক পদ্ধতি। এমএমপি পদ্ধতি আরো যৌক্তিক মনে হচ্ছে। তবে ফ্যাসিবাদ যাতে কোনোভাবে ফিরে না আসে, সেজন্য সবাইকে ঐকমত্যের মধ্যে থাকতে হবে।
অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ বলেন, ‘১৯৪৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের কোনো সনদ হয়নি। এটা দুঃখজনক। আমাদের ভাবতে হবে কোন পদ্ধতিতে রাষ্ট্র ভালো চলবে। সেই আলোকে পিআর হতে পারে সবচেয়ে ভালো। আজকে যে পদ্ধতি উত্থাপন করা হয়েছে, এটাও মধ্যবর্তী পন্থা হিসেবে চমত্কার।’
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক যে অস্থিরতা, সেটা আগেও ছিল। ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে ২ হাজার মানুষ হত্যার পেছনে অন্তত ৪ হাজার পুলিশ জড়িত। কতজন গ্রেফতার হয়েছে? সচিবালয়ে ফ্যাসিস্টের দোসর ৭৬ জন সচিব আছে। কী ব্যবস্থা হলো তাদের বিরুদ্ধে? অন্যদিকে, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়নযোগ্য না-ও হতে পারে। এক্ষেত্রে এম‌এমপি ব্যবস্থা একটি কার্যকর ব্যবস্থা হতে পারে। সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম অপু বলেন, পিআরের ক্ষেত্রে প্রথমে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত জরুরি। তিনি আরো বলেন, জাতীয় পার্টিসহ ফ্যাসিবাদের সব দোসরকে নির্বাচনের বাইরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। নির্বাচনে এম‌এমপি একটি ভালো ব্যবস্থা হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, বর্তমান নির্বাচনি ব্যবস্থায় ভোটকে একটি ব্যবসায় পরিণত করা হয়েছে। তাই বিদ্যমান নির্বাচনি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে।
গোলটেবিল বৈঠকে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শরাফত হুসাইন, খেলাফত আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সুলতান মহিউদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা মামুনুর রশীদ, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হুসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক মুসা, মাওলানা আবু সাইদ নোমান, বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, আইন বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শরীফ হোসাইন, সহপ্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাইদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা আব্দুস সুবহান, মাওলানা সানাউল্লাহ আমিনী, মাওলানা মুর্শিদুল আলম সিদ্দিক প্রমুখ।
উল্লেখ্য, সরাসরি ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার এবং রাজনৈতিক দলকে ভোট দিয়ে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধি নির্বাচন (পিআর), একসঙ্গে উভয় পদ্ধতি প্রয়োগের নাম হলো মিশ্র পদ্ধতি বা এমএমপি। সেক্ষেত্রে একটি রাজনৈতিক দল কিছু সংসদীয় আসন পায় স্থানীয় বিজয়ী প্রার্থীর মাধ্যমে আর কিছু আসন পেতে পারে সারা দেশে প্রাপ্ত মোট ভোটের আনুপাতিক হারে। এতে ছোট ছোট দলের প্রার্থীরা বড় দলগুলোর হেভিওয়েট প্রার্থীদের কাছে হেরে গিয়ে একটিও আসন না পেলেও সংখ্যানুপাতিক কিছু আসন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও