প্রভাত রিপোর্ট: দাবি মেনে নিতে সরকারকে এক মাস সময় দিলো ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’। এর মধ্যে দাবি আদায় না হলে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন জোটের নেতারা। বুধবার (১৩ আগস্ট) শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর প্রেস ক্লাবের সামনে এসে আন্দোলনরত শিক্ষকেদের মাঝে এ ঘোষণা দেন জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী। সচিবালয়ে যাওয়া শিক্ষকদের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলে তিনিও ছিলেন।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, এক মাসের মধ্যে আমাদের দাবি মানা না হলে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর অর্ধদিবস এবং ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালান করা হবে। তাতেও না হলে ১২ অক্টোবর থেকে প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
সদস্যসচিব বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বাড়ি ভাড়া ৫০% থেকে ৭৫% করে ডিউ লেটার অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় আমাদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তারা বলেছেন, সব দাবি একবারে পূর্ণ করা সম্ভব নয়। আমরা এই দাবিগুলো পূরণে কী পরিমাণ অর্থ লাগবে তা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করব। প্রস্তাব রেখেছি, আমাদের বাড়ি ভাড়া পার্সেন্টেজ হিসেবে বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে ২০% বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করে অর্থ মন্ত্রণালযয়ে পাঠানো হবে। চিকিৎসা ভাতা ৫০০ থেকে ১০০০ করা হবে। আমরা এই বিষয় নিয়ে আর বেশি কিছু বলিনি। আমরা বাড়ি ভাড়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। যদি আমাদের দাবিগুলো মেনে অর্থ মন্ত্রণালযয়ে ডিউ লেটার পাঠানো না হয় তাহলে আমরা নতুন কর্মসূচিতে যাব।
সভা সূত্র জানায়, সার্বজনীন বদলি কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব মো. মিজানুর রহমানকে। সদস্যসচিব করা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব (মাধ্যমিক-২) সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলীকে। এছাড়া সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে সদস্য রাখা হয়েছে।
সভায় অংশ নেয়া শিক্ষক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষা উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সর্বজনীন বদলি ও বাড়িভাড়ার বিষয় নিয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে।
শিক্ষকদের বাড়িভাড়া কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রস্তাবনা চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বৈঠকে শিক্ষকরা জানান, তারা এ নিয়ে আলোচনা করে বাড়িভাড়া কীভাবে বাড়ানো যাবে, তার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দেবেন। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও আশ্বাস দেয়া হয়েছে বাড়ি ভাড়া টাকা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। শিক্ষকদের দাবি-দাওয়াগুলো যৌক্তিক উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা তা ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
এর আগে বুধবার সকাল ১০টা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মহাসমাবেশ শুরু করেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। দেশের ৬৪ জেলার কয়েক হাজার শিক্ষক এতে অংশ নেন। শিক্ষকদের সমাবেশের কারণে পল্টন থেকে হাইকোর্ট ও শাহবাগ অভিমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে সমাবেশ শেষে দুপুর ২টার দিকে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করার কথা থাকলেও তা করেননি শিক্ষকরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ ও উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হওয়ায় শিক্ষকরা বিকেল ৩টার দিকে সমাবেশ শেষ করে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেন।