• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং, মব কালচার ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে সরকার হজে খরচ কমাতে বিমান ভাড়া হ্রাস : ধর্মমন্ত্রী বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানো হয়েছে : শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ ২৪ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ, গরমে হাঁসফাঁস জনজীবন মোবাইল ইউনিটে গ্রামেই হবে হৃদরোগের জটিল চিকিৎসা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ‘গুপ্ত’ ও চট্টগ্রামে সংঘর্ষ ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ জনগণের কাছে যান, শহর ঘুরে দেখুন: সিটি প্রশাসকদের প্রতি প্রতিমন্ত্রী চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ও বিশ্বস্ত বন্ধু: স্পিকার
রোহিঙ্গা গণহত্যার ৮ বছর

আমরা নাগরিক অধিকার নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই

প্রভাত রিপোর্ট / ১৮৬ বার
আপডেট : সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫

প্রভাত সংবাদদাতা, টেকনাফ : আশ্রিত জীবনে ঝুপড়ি ঘরে ৮ বছর পার করার পরও নিজ দেশে ফিরতে না পেরে কক্সবাজারের উখিয়ায় সমাবেশ করেছেন রোহিঙ্গারা। সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই সমাবেশ করেন ক্যাম্পে বসবাসকারী হাজার হাজার রোহিঙ্গা। দুপুরের দিকে সমাবেশ শেষ হয়।
জানা গেছে, মিয়ানমার জান্তা সরকার রাখাইনে সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়ন ও নির্যাতন চালালে ২০১৭ সালর ২৫ আগস্ট লাখ লাখ রোহিঙ্গা নিজ দেশ ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেন। এরপর থেকে সাড়ে ১২ লাখের অধিক রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে বসবাস করছেন। এরপর থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।
রোহিঙ্গা মাঝি বদরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তো বাংলাদেশের কেউ নই। আমাদের পরিচয় রোহিঙ্গা। মিয়ানমার সরকার রাখাইনে রোহিঙ্গা জাতির ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে রাখাইন থেকে বিতাড়িত করে। তখন থেকে আমরা বাংলাদেশে আশ্রয়ে আছি। বার বার বলছি আমরা নাগরিক অধিকার নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। আজ ৮ বছর হলো নিজ দেশে একজন রোহিঙ্গাও ফিরতে পারেনি। ক্যাম্পের ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছি।’
রোহিঙ্গা নারী জমিলা বেগম বলেন, রাখাইনে আমাদের ভিটেমাটি সব ছিল। সব ছেড়ে এখন প্রবাসে জীবন কাটাচ্ছি। নিজ দেশের জন্য পেট পুড়ে। দিন দিন পরিবার বড় হচ্ছে। পরিবারের এতজন সদস্য নিয়ে কীভাবে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করবো। আমরা নিজ দেশে ফিরতে চাই।
সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ে মাস্টার মহিবুল্লাহ অনেক কষ্ট করেছিলেন। বিশ্ববাসীর কাছে রোহিঙ্গাদের কথা তুলে ধরতেন। সেই রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মহিবুল্লাহ হত্যার শিকার হলো। বলতে গেলে রোহিঙ্গা জাতি একজন যোগ্য রোহিঙ্গা নেতাকে হারিয়েছে। আমরা চাই না ক্যাম্পে নতুন কোনো ঘটনা সৃষ্টি হোক, এসব পরিহার ও বন্ধ করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তারা আরও বলেন, আজ ৮ বছর হলো আমরা রাখাইন ছেড়ে প্রবাসে জীবন কাটাচ্ছি। কিন্তু নিজ দেশে ফিরে যেতে পারিনি। বাংলাদেশ সরকারসহ দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলো আমাদের মঙ্গলের জন্য অনেক কাজ করছে। এতে আমরা খুশি। কিন্তু বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের একটাই অনুরোধ ও আবেদন আমরা যেন নিজ দেশে নাগরিক অধিকার নিয়ে ফেরত যেতে পারি। সোমবার সকাল থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও পোস্টার হাতে সমাবেশে যোগদান করেন।
১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. সিরাজ আমীন বলেন, ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ চলাকালীন ক্যাম্পে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সকাল থেকে শুরু হওয়া সমাবেশ দুপুরের দিকে শেষ হয়।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও