প্রভাত সংবাদদাতা, ফটিকছড়ি : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অবৈধ মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে একাধিকবার ব্যর্থতার পেছনের রহস্য অবশেষে উদ্ঘাটিত হয়েছে। অভিযানের আগাম তথ্য ফাঁসের অভিযোগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের আশপাশে নজরদারিতে নিয়োজিত এক ব্যক্তিকে আটক করে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে প্রশাসন। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে অবৈধ মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় ঘটনাস্থলে কোনো অপরাধীকে পাওয়া যাচ্ছিল না। একইসঙ্গে কর্তনের কাজে ব্যবহৃত কোনো যন্ত্রপাতিও উদ্ধার হচ্ছিল না। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, অভিযানের কিছুক্ষণ আগেও সেখানে অবৈধ কার্যক্রম চলছিল। এ থেকেই প্রশাসনের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধে যে, অভিযানের তথ্য আগেভাগেই অপরাধীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের আশপাশে নজরদারি জোরদার করা হয়। সন্ধ্যার পরপরই কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তির সন্দেহজনক ঘোরাফেরা লক্ষ্য করা যায়। ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ১৯ ডিসেম্বর রাত ১২টার দিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় অ’ভিযানের তথ্য সরবরাহকালে মো. দিদারুল আলম (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে দিদারুল আলম স্বীকার করেন, তিনি নিয়মিতভাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে অভিযানের আগাম তথ্য অবৈধ মাটি কর্তনকারীদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এর বিনিময়ে তিনি প্রতিরাতে ৫০০ টাকা করে গ্রহণ করতেন। অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি ও প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নজরুল ইসলাম বলেন , অবৈধ মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একইসঙ্গে অভিযানের তথ্য ফাঁসসহ যেকোনো ধরনের অ’নিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।