প্রভাত সংবাদদাতা,চট্টগ্রাম: একাধিক টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড গড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। ২০২৫ সাল শেষ হতে আরও কয়েক দিন বাকি। এরই মধ্যে ২০২৪ সালে গড়া রেকর্ড ছাড়িয়ে তৈরি হয়েছে নতুন মাইলফলক। জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ৩৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৩৯ টিইইউএস (২০ ফুট সমমান হিসেবে) কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে; যা আগের পুরো বছরের চেয়ে প্রায় ৬১ হাজার বেশি। ২০২৪ সালে বন্দরের ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যক ৩২ লাখ ৭৫ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল। এবার এক সপ্তাহ বাকি থাকতেই সেই রেকর্ড অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বছরের অবশিষ্ট যে সময় আছে তার হিসাব যোগ হলে এ বছর কনটেইনার হ্যান্ডলিং ৩৪ লাখ টিইইউএস ছাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু কনটেইনার নয়, কার্গোতেও হয়েছে রেকর্ড। চলতি বছরের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩ কোটি ৫১ লাখ ২৭ হাজার ৮৮৮ টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে; যা এর আগের পুরো বছরে ছিল ১২ কোটি ৩৯ লাখ ৮৬ হাজার টন। গত বছরের চেয়ে এ বছর জাহাজের সংখ্যাও বেড়েছে। গত বছর বন্দরে ৩ হাজার ৮৫৭টি জাহাজ হ্যান্ডলিং হলেও ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত হয়েছে ৪ হাজার ১৭৭টি।
বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (মেরিন ও হারবার) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা অটোমেশনে গেছি। পাশাপাশি কাস্টমসের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছি। ইয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়েছে। এসব কারণে আমাদের পক্ষে নতুন রেকর্ড গড়া সম্ভব হয়েছে।’
বন্দরের জন্য সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। এ হিসেবে ২০২৯ সালের দিকে আরও ৮ লাখ কনটেইনার বেশি হ্যান্ডলিং করতে হবে, যা বন্দরের বর্তমান অবকাঠামো দিয়ে সম্ভব নয়। নতুন টার্মিনাল না হওয়া পর্যন্ত এ চাপ কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, এখন থেকেই তার একটি সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে স্বস্তির জায়গাটুকু থাকবে না।’
বন্দরসংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা, বছরের মাঝামাঝি কাস্টম কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি, কয়েক দফা পরিবহন ধর্মঘট, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কর্মবিরতিসহ নানান প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে। এর পরও কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড বন্দর কর্তৃপক্ষের সাফল্যের বহিঃপ্রকাশ। বহুল আলোচিত নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেডকে দেওয়ার পর এ টার্মিনালে কাজের গতি আগের চেয়ে বেড়েছে। পাশাপাশি নতুন সরঞ্জাম সংযোজনের ফলে বিদেশি প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে পরিচালিত পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালেও বেড়েছে হ্যান্ডলিং সক্ষমতা। এ ছাড়া বন্দরে গাড়ি প্রবেশে অটোমেশন, জাহাজের ওয়েটিং টাইম কমিয়ে আনা, ইয়ার্ড বৃদ্ধিসহ নানান কারণে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে গতি বেড়েছে।