মো.নজরুল ইসলাম,গাইবান্ধা : উত্তরের হিমেল হাওয়ার সঙ্গে ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠাণ্ডায় গাইবান্ধা জেলায় শীত যেন জেঁকে বসেছে। ভোর থেকে সকাল চারদিক ঢেকে থাকছে কুয়াশার চাদরে। শীতের তীব্রতায় জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন, বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষজন।
শীত নিবারণের একমাত্র ভরসা হিসেবে অনেককে দেখা যাচ্ছে খড়কুটো, কাঠ, পাটের শলা বা সিনটা জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে। পল্লী এলাকার পাশাপাশি সাদুল্ল্যাপুর উপজেলার ধাপের হাট, মিরপুর, বনগ্রামসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই দৃশ্য চোখে পড়ছে। আগুন ঘিরে গোল হয়ে বসে শীত তাড়ানোর চেষ্টা করছেন দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও রিকশাচালকেরা।
রিকশা শ্রমিকদের আয় কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। শীতের কারণে মানুষ ঘরের বাইরে কম বের হওয়ায় যাত্রী সংকটে পড়েছেন তারা। মাঠে কাজ করা শ্রমিকরাও ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না, ফলে দিনমজুরদের কষ্ট বেড়েছে বহুগুণ।
শীত ও কুয়াশার কারণে সর্দি, কাশি ও ঠাণ্ডাজনিত জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। রোদ না ওঠায় অনেক পরিবারে কাপড় শুকানো পর্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহর ও গ্রামাঞ্চলে গরম কাপড় ও জুতার দোকানগুলোতে বাড়ছে ভিড়। ফুটপাতের দোকানগুলোতে কম্বল, সোয়েটার ও জ্যাকেট কিনতে দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল গাইবান্ধা জেলায় দিনের তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১৮ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর রাতের তাপমাত্রা নেমে আসে ৯ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আগামী আরও ২-–৩ দিন শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে। দিনে তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও রাত ও ভোরে শীত আরও বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, কনকনে ঠাণ্ডা আর ঘন কুয়াশার দাপটে গাইবান্ধার জনজীবন এখন কঠিন সময় পার করছে। শীত কবে একটু সহনীয় হবে সেই অপেক্ষায় দিন কাটছে জেলার হাজারো মানুষের।