• বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
হোমনায় সেনা অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রসহ ৫ যুবক আটক হজযাত্রীদের বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে: ধর্ম উপদেষ্টা ‘নির্বাচনি মাঠে কেউ বাড়াবাড়ি করছে কিনা তা জানতে চেয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত’ ঢাকায় মেট্রোরেলের পরিসর আরও বাড়ানো হবে : জামায়াত আমির মির্জা আব্বাস দেশের ‘এক নম্বর ক্রিমিনাল’: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের কথা বলা জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি: সালাহউদ্দিন আহমদ নির্বাচনে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রস্তুত বিজিবির ডগ স্কোয়াড-হেলিকপ্টার সরকারকে অবহিত না করেই ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার সরিয়ে নেয়া হয়েছে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আগামীকাল থেকে ঢাকাসহ তিন জেলায় নামছে ৩৮ প্লাটুন বিজিবি অন্তর্বর্তী সরকার কেন বিচার বিভাগকে পঙ্গু করে রেখেছে: এ কে আজাদ

স্বাধীন সাংবাদিকতাই সরকারকে সত্য কথা বলতে পারে: মাহফুজ আনাম

প্রভাত রিপোর্ট / ১৭ বার
আপডেট : শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেছেন, স্বাধীন সাংবাদিকতাই একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যা সরকারকে সত্য কথা বলতে পারে। একটা সরকার সত্যিকার অর্থে যদি স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করে, সেই উদারপন্থি দৃষ্টিভঙ্গি রাখে, তাহলে তারাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে সম্পাদক পরিষদ এবং নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) আয়োজিত গণমাধ্যম সম্মিলনে তিনি এ কথা বলেন।
সরকারের উদ্দেশে মাহফুজ আনাম বলেন, আপনি মনে রাখবেন, আপনাকে কেউ সত্য কথা বলবে না। আপনার দলীয় লোকরা বলবে না ভয়ে এবং সরকারের ব্যুরোক্রেসি বলবে না, আপনার সরকারের ইন্টেলিজেন্স কমিউনিটি বলবে না। তারা সবসময় আপনাকে প্রশংসার জগতে আবদ্ধ রাখবে। স্বাধীন সাংবাদিকতা হলো একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা আপনাকে সত্য কথা বলবে।
আমরা জুডিশিয়ারিকেও জবাবদিহির মধ্যে রাখতে চাই মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা যদি ভুলক্রমে জুডিশিয়ারি সম্বন্ধে কিছু লিখি, অবমাননা করার জন্য লিখি না, জুডিশিয়ারিকে হেও করার জন্য লিখি না, আমরা তাদেরও জবাবদিহির মধ্যে রাখতে চাই। জুডিশিয়ারি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জনগণের অধিকার আছে, জুডিশিয়ারির পারফরমেন্স সম্বন্ধে জানা। কিন্তু আমরা অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে জুডিশিয়ারির ওপর লেখালেখি করি, কোনও দিন তাদের অপমান করার জন্য লিখি না। তাই আমার অনুরোধ থাকবে, আপনারা যেন স্বাধীন সাংবাদিকতার একটা বিরাট সহায়ক শক্তি হন।
মাহফুজ আনাম বলেন, আমি জুডিশিয়ারির কাছে আপিল করবো, আপনারা মনে রাখবেন যে স্বাধীন সাংবাদিকতা হলো, স্বাধীন বিচার বিভাগের একটা মূল অস্ত্র। স্বাধীন সাংবাদিকতা স্বাধীন বিচারব্যবস্থা একে অপরের সম্পূরক। মাঝে মাঝে আমরা দুঃখের সঙ্গে দেখি, এমন জাজমেন্ট আসে, এমন বক্তব্য আসে, যেটা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থি। তিনি বলেন, আমরা যারা সাংবাদিকতায় এসেছি তারা কেন এসেছি? চাকরি অবশ্যই, কিন্তু তার ঊর্ধ্বে একটা চিন্তা আছে, সমাজসেবা। গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, বৈষম্য সরিয়ে দেয়া এবং ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগতভাবে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর লোক, বিভিন্ন গোষ্ঠী, সবারই অধিকার, গণতন্ত্র, সেটাই হলো আমাদের পেশার মূলমন্ত্র।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে মাহফুজ আনাম বলেন, আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে, সামাজিক জীবনে সততা নিষ্ঠা এবং সঠিক স্বাধীন সাংবাদিকতা করার যে মৌলিক, যে ইথিক্যাল ভ্যালিউস আমি অনুরোধ করবো আপনারা সেটাকে নিজের জীবনে, নিজের চেতনায় সবসময় ধরে রাখবেন। কেননা আমরা সাংবাদিক হয়ে যদি এই মূল্যবোধের পেছনে না থাকি তাহলে সমাজ কিন্তু আমাকে সেই সমাদর করবে না। দ্বিতীয়ত, আমরা যারা এডিটর হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছি আমরা যেন মনে রাখি, আমাদের প্রত্যেকটি আচরণ, আমাদের প্রত্যেকটি কাজ, আমাদের নিজের জীবনের যে মূল্যবোধ এটা কিন্তু আমার আমার প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবান্বিত করে, একজন সম্পাদক হিসেবে নৈতিক দায়িত্ব, প্রফেশনাল ডিউটি, ইথিক্যাল ডিউটি সাংবাদিকতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখা। আমি যদি সম্পাদক হিসেবেন নৈতিকতার পতন ঘটাই, নৈতিকতার পরিপন্থি কোনও কাজ করি তাহলে আমার প্রতিষ্ঠান প্রভাবান্বিত, ধ্বংস হয়, আমার পেশা কলুসিত হয়।
সংবাদমাধ্যমের মালিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যার সংবাদপত্রে বিনিয়োগ করেন আপনাদের ধন্যবাদ কিন্তু আপনি অন্য ইন্ডাস্ট্রিতে যে বিনিয়োগ করেন সেই মানসিকতা নিয়ে যদি গণমাধ্যমে বিনিয়োগ করেন তাহলে সেই গণমাধ্যম কখনোই জনগণের আস্থা অর্জন করবে না। আমি সাংবাদিকতাকে মনে করি উই আর সোশ্যাল ডক্টর, আমরা সামাজিক চিকিৎসক। যখন চিকিৎসকের কাছে যাই, আমি জানতে চাই, আমার শারীরিক কোনও অসুখ আছে কিনা? আমি চিকিৎসকের কাছে যাই না শুনতে যে আমাকে খুব সুন্দর লাগছে। আমি শুনতে চাই আমার কোনও অসুখ আছে কিনা। একইভাবে সাংবাদিক আমরা সবসময় সোশ্যাল ডাক্টার, আমরা সমাজের, সরকারের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরবো, কেননা আমরা সমাজকে ভালোবাসি। সমাজকে, দেশকে ভালোবাসি, দেশের উন্নতির জন্য আমরা। একজন বিনিয়োগ করে চাকরি সৃষ্টি করছেন, আমরা ত্রুটি ধরে সমাজের উন্নয়নের জন্য কাজ করছি। তাই যারা মালিক তারা মনে রাখবেন, ব্যবসায়িক স্বার্থে সাংবাদিকতাকে যদি বাধ্য করেন, তাহলে জনগণ তা গ্রহণ করবে না। তাই আমার অনুরোধ থাকবে, যে, যারা মালিক তাদেরও একটি ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ যেন থাকে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও