প্রভাত বিনোদন : সম্প্রতি বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে ডারসিন থমাসের। এরপর জীবন নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপেই তিনি বাধার মুখে পড়ছেন। চাকরির খোঁজ, ব্যবসায়িক আইডিয়া বা ভিন্ন সুযোগ—কোথাও নেই আশার আলো। লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রতিটা রাস্তায় তাঁর জন্য একের পর এক বাধা তৈরি হয়। এভাবেই শুরু হয় ‘ডারসিন’স ডে’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের গল্প।
স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমাটিতে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের বেঁচে থাকার সংগ্রামের গল্প। মূলত গল্পটি নারীর সংগ্রামের গল্প বলে। যে নারী বিশ্বের উন্নত দেশে থেকেও নানা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। যেখানে দিন শেষে যেন হতাশা ছাড়া কিছু চোখে পড়ে না।
সিনেমাটিতে লস অ্যাঞ্জেলেসে ডারসিনের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা এতে তুলে ধরা হয়েছে। যার দিন শুরু হয় কখনো সাক্ষাৎকার, কখনো ব্যবসায়িক অ্যাপয়েন্টমেন্টের পরিকল্পনার কোনো মিটিংয়ের মাধ্যমে। এই নারী ঘুরে দাঁড়াতে একই সঙ্গে চাকরি ও ব্যবসা—দুটোই চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তবতা কঠিন। যা কখনো আশাজাগানো, কখনো মন ভেঙে দেয়। যদিও প্রতিটি ব্যর্থতা তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
ডারসিনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাইলা ডায়ান কেনেডি। তাঁর সংবেদনশীল ও স্বাভাবিক অভিনয় উপস্থাপন পছন্দ করেছেন দর্শক। তিনি বুদ্ধি, দৃঢ়তা ও মানসিক ভারসাম্য বজায় রেখে প্রতিটি দৃশ্য সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন। একটি দৃশ্যে স্কুলের চাকরির জন্য ডেকে একপর্যায়ে তার বয়স জিজ্ঞাসা করা হয় এবং তাঁর ডিভোর্সের কথা শুনে স্কুলে চাকরি হয় না। তারা মুখের ওপর বলে দেয়, আরও তরুণ কাউকে খুঁজছে। মূলত চাকরি না দেওয়ার পাঁয়তারা। এ ঘটনায় রুম থেকে দ্রুত বের হয়ে যাওয়া প্রকাশ করে সে নিজের সম্মান নিয়েই বাঁচতে চায়।
আবার অর্থ, খাদ্যসংকটে থাকলেও সে কোনো কিছু চুরি করতে চায়। এর মধ্যে দিয়ে ডারসিনের সংগ্রামকে তুলে ধরা হয়েছে। ডারসিনের সংগ্রামের মাধ্যমে বোঝে যায়, কখনো কখনো মানুষের জীবনকে সমাজের ফাঁকফোকরেই আটকে রাখা হয়। সমাজে তারা সাধারণত অগণ্য থাকে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পায় না। কিন্তু প্রতিটি ব্যর্থতা তাদের সত্যিকারের নিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়।
বিবাহবিচ্ছেদের পরে স্বাভাবিক একটি জীবন যাপন করতে চেয়েছিল এই নারী। চাকরি ছেড়ে সংসারে সময় দিয়েছে। কিন্তু দিন শেষে তাকে একা হতে হয়। যে কারণে বলে যায়, স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমাটি সেই সব ভাঙা জীবনের কাহিনি বলে, যেগুলো সাধারণ চোখে দেখা যায় না, তাদের জন্য প্রতিটি দিনই এক নতুন চ্যালেঞ্জ, নতুন স্বপ্নের। সেই স্বপ্ন দেখে বলেই যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির জন্য হন্য হয়ে ঘুরতে থাকা মেয়েটি গাড়ির মধ্যে ঘুমায়। এটি পরিচালনা করেছেন অ্যারন গফম্যান। সান ফ্রান্সিসকো শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালসহ একাধিক উৎসবে এটি পুরস্কৃত হয়েছে। সম্প্রতি ‘অমেলেতো’ ইউটিউব চ্যানেলে এটি প্রচারিত হয়েছে।