• শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চার দিনে দেশে এলো ৬১৭৩ কোটি টাকার প্রবাসী আয় বিশ্ববাজারে সোনা-রুপা-তেলের দামে ধস দেশে সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি আনসার-ভিডিপি মোতায়েন থাকবে : মহাপরিচালক তিন কমিশনারসহ কাস্টমসের ৩৮ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সোমবার ক্ষমতায় বসে নির্বাচন করছে জামায়াত-এনসিপি: মির্জা আব্বাস জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক: বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ছরওয়ারের জামিন নতুন সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর ১৭, ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাবে না: প্রেস সচিব ভোটের জন্য গ্রামে গ্রামে ছুটছেন সবার ‘স্যার’ মির্জা ফখরুল জামায়াতের মতো মিথ্যাবাদী শক্তি দুনিয়ায় নেই: চরমোনাই পীর

ভোটের জন্য গ্রামে গ্রামে ছুটছেন সবার ‘স্যার’ মির্জা ফখরুল

প্রভাত রিপোর্ট / ৫ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা,ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ী বাজার পেরিয়ে মাত্র ১০০ গজ এগোলেই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পৈতৃক বাড়ি। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা এই রাজনীতিককে এলাকার ছোট-বড় সবাই এখনো ভালোবেসে ‘স্যার’ বলেই ডাকেন। সেই পরিচিত মুখ, সেই চেনা মানুষটিই এবার ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে সংসদ নির্বাচনের মাঠে।
জয়ের বিষয়ে অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী হলেও প্রচার-প্রচারণায় কোনো শৈথিল্য নেই মির্জা ফখরুলের। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে ছুটে চলেছেন তিনি। ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, নেতা-কর্মীদের দিকনির্দেশনা, পথসভা, সব কিছুতেই সরব বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। এটাই নিজের জীবনের শেষ নির্বাচন- এ কথা জানিয়ে ভোটারদের তার পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় মির্জা ফখরুলের বাড়ির সামনে নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড় দেখা যায়। বসার ঘরে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে নিচ্ছিলেন নির্বাচনী প্রচারণার সর্বশেষ খবর।
জেলার নেতারা জানান, শবে বরাতের দিন গণসংযোগ বন্ধ থাকলেও গভীর রাত পর্যন্ত স্যার নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছিলেন, প্রচারণার খোঁজখবর নিয়েছেন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, দলের মহাসচিব আমাদের অভিভাবক। তিনি নিজেই গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের কথা শুনছেন। মানুষও তাকে আপন করে গ্রহণ করছে। প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছেন তার বড় মেয়ে শামারুহ মির্জাও।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে তিনি ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের একটি প্রশিক্ষণে যোগ দেন। সেখানে ভোটের ফলাফল নিশ্চিত করে ঘরে ফেরার নির্দেশনা দেন। এরপর শুরু হয় টানা গণসংযোগ। পথে পথে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান গ্রামবাসীকে। কোথাও জটলা দেখলে গাড়ি থেকে নেমে কথা বলেন সবার সঙ্গে। বেলা সাড়ে ১১টায় সদর উপজেলার কিসমত দৌলতপুরে পৌঁছালে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।
পথসভায় মির্জা ফখরুল বলেন, আমি নতুন কেউ নই। প্রায় ৩৫ বছর ধরে আপনাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক। অনেকেই আমার ছাত্র। জিতেছি, হেরেছি-কিন্তু আপনাদের ছেড়ে যাইনি। সরকার গঠন করতে পারলে এলাকায় মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, বন্ধ বিমানবন্দর চালু, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রেখে ঠাকুরগাঁওকে একটি মডেল জেলায় রূপান্তরের অঙ্গীকার করেন তিনি।
দুপুর সাড়ে ১২টায় বেগুনবাড়ী ইউনিয়নের বশভাংগা গ্রামে পৌঁছালে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ফুল ও উলুধ্বনিতে তাকে স্বাগত জানান। সেখানে তিনি বলেন, এটাই আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। আপনারা নির্বিঘ্নে ভোট দেবেন। আপনাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের। তিনি আরও জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ছয় মাসের মধ্যে বশভাংগা মন্দির উন্নয়ন ও এলাকার রাস্তা পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আসন্ন তারেক রহমানের জনসভায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এরপর দানারহাট, কহরপাড়া, মণ্ডলপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও গণসংযোগ করেন তিনি। মণ্ডলপাড়ায় এক নারী ভোটার মোছা. চামেলি মাটির ব্যাংকভর্তি টাকা উপহার দিলে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়। সন্ধ্যা ও রাতেও শহরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক সভা ও মতবিনিময়ে অংশ নেন বিএনপির মহাসচিব।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, এখানে মানুষের প্রধান পেশাই হলো কৃষিকাজ। তবে কৃষক ফসল ফলিয়ে বছরের পর বছর ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এখানে একটি চিনিকল আর কয়েকটি অটো রাইস মিল ছাড়া কোনো শিল্প, কলকারখানা নেই। বিএনপির মহাসচিব জয়ী হলে তিনি এলাকায় কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবেন।
পায়ে সমস্যার কারণে লাঠির ওপর ভর করে চলতে হয় নারগুন ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের জুলেখা বেগমকে। তিনিও মির্জা ফখরুলের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। জুলেখা বলেন, ‘স্যার (মির্জা ফখরুল) একখান বড় দলের বড় নেতা। তিনি জিতিলে এলাকাত অনেক কাজ করবা পারিবেন।
কিসমত দৌলতপুরের ভোটার সালেহা বেগম বলেন, ‘একখান ভালো মানুষক ভোট দিয়া জিতাবা পারিলে হামারই লাভ।’
বেগুনবাড়িতে সভা শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি দীর্ঘদিন রাজনীতি করে আসছি। এ এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এলাকার লোকজন সবাই আমাকে ভালোবেসে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেন। তাদের সমস্যাগুলো কী, তা আমি জানি। গণসংযোগে গিয়ে আমরা তাদের প্রত্যাশার কথা শুনছি। এই নির্বাচনে আমাদের দল দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারব।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও