প্রভাত ডেস্ক: দেশজুড়ে প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর ইরান সরকার তেহরানে বেশ কয়েকটি বেসরকারি মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো, যখন দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি ধসে পড়তে শুরু করেছে এবং ইরানের জনগণ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উভয়ই কঠিন চাপে পড়েছে। এদিকে ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনপূর্ণ এক কূটনীতির পথে এগোচ্ছে।
পুলিশ কিংবা বিচার বিভাগ—কেউই এখন পর্যন্ত এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেনি। ব্যক্তিগত যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগই তেহরানের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলে, গত মাসে এসব এলাকাতেই তরুণদের বিক্ষোভ বেশি হয়েছিল।
অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে গত বছর ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বাণিজ্যিক এলাকা গ্র্যান্ড বাজারে ব্যবসায়ীরা প্রথম বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন। তাঁদের ওই বিক্ষোভ পরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
সে সময় অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হয় ধর্মঘট পালন করেছিল, নয়তো অনলাইনে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম স্টোরির মাধ্যমে তারা বিক্ষোভের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছিলেন।
গত কয়েক দিনে ইরানের একটি পুলিশ কর্তৃপক্ষ বহু ছোট ও মাঝারি আকারের রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, কফি শপ, আর্ট গ্যালারি, আইসক্রিম শপসহ নানা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। এই পুলিশ কর্তৃপক্ষ জনসমাগমস্থল তদারকির দায়িত্বে আছে।
বন্ধ করে দেয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের পাতায় পোস্ট দিয়ে বলেছে, সে সময়ে তাদের পোস্ট করা কনটেন্ট ‘দেশের নিয়মের লঙ্ঘন এবং পুলিশের নির্দেশনা অনুসরণ না করা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
গত সোমবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি একটি স্বীকারোক্তিপত্রের ছবি প্রকাশ করে। ওই স্বীকারোক্তিপত্রে বেসরকারি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী সাইয়েদিনিয়ার নাম স্বাক্ষর করা।
৮১ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী ও তাঁর পরিবার জনপ্রিয় একটি ক্যাফে ও খাবারের ব্র্যান্ড পরিচালনা করতেন। দেশজুড়ে তাঁদের এক ডজনের বেশি শাখা রয়েছে।
গত সপ্তাহে ইরানের বিচার বিভাগ নিশ্চিত করেছে, বিক্ষোভের পরবর্তী সময় থেকে মোহাম্মদ আলী সাইয়েদিনিয়া কারাগারে রয়েছেন, তাঁর সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং দাঙ্গার সময়ে সৃষ্ট ক্ষতি পূরণের জন্য তাঁর সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
স্বীকারোক্তিপত্রে লেখা আছে, ‘দুর্ভাগ্যবশত সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে তৈরি হওয়া সংকটের কারণে এবং কারখানায় অর্থায়নের জন্য আমার ছেলে ভুলবশত তেহরান বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের দোকানগুলোও বন্ধ ঘোষণা করেছিল।’
স্বীকারোক্তিপত্রে আরও লেখা আছে, ‘আমার ছেলে এবং আমি এখন সম্পূর্ণভাবে আমাদের ভুল বুঝতে পেরেছি এবং প্রিয় জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। কারণ, যদি (দেশে) কোনো সমস্যা থাকেও, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যাতে ইরান ও ইসলামের শত্রুরা তার অপব্যবহার করতে না পারে।’
প্রায় এক মাস ধরে চলা ওই বিক্ষোভে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন বলে ইরান সরকার জানিয়েছে। নিহত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর।