• শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:১০ পূর্বাহ্ন

জামিন পেলেন না, জেলেই থাকতে হচ্ছে রাজপাল যাদবকে

প্রভাত রিপোর্ট / ৪ বার
আপডেট : শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রভাত বিনোদন : ৯ কোটি রুপির চেক বাউন্স মামলায় আপাতত তিহাড় জেলেই থাকতে হবে রাজপাল যাদবকে। গত বুধবারই শোনা যায়, জামিন পেতে পারেন অভিনেতা। রাজপালের ম্যানেজার গোল্ডির কথাতেও তেমন ইঙ্গিতই মিলেছিল। বকেয়া না মেটাতে পারায় কৌতুকাভিনেতার গ্রেপ্তারির খবর প্রকাশ্যে আসার পর একজোট হয়ে বলিউডও অর্থসাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই বৃহস্পতিবার দিল্লি উচ্চ আদালতের শুনানির দিকে নজর ছিল গোটা বলিউডের। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মামলায় শেষমেশ রেহাই পেলেন না রাজপাল যাদব। অভিনেতার জামিনের আবেদন খারিজ করে দিলেন দিল্লি উচ্চ আদালত।
‘বাড়িতে দাদার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান রয়েছে’ বলে কোর্টের কাছে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন রাজপাল। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে উচ্চ আদালতে পালটা ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হলো অভিনেতাকে। পরবর্তী শুনানি আগামী সোমবার। অর্থাৎ আরও দিন চারেক রাজপাল যাদবকে তিহাড় জেলেই থাকতে হচ্ছে রাজপাল যাদবকে।
আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কেবল আদালতের আদেশের কারণে জেলে যাননি; বরং নিজের দেয়া আর্থিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি স্বরণা কান্তা শর্মা শুনানিতে বলেন, ‘আপনি আদালতের আদেশে জেলে যাননি। আপনি জেলে গেছেন, কারণ নিজের দেয়া অঙ্গীকার মানেননি।’
শুনানিতে আদালত জানান, যাদব নিজেই অভিযোগকারী পক্ষের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছেছিলেন। পরে সেই চুক্তির শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হন। অভিনেতার আইনজীবী দাবি করেন, মামলার কার্যক্রম চলাকালে যাদব ‘ভুল পথে পরিচালিত’ হয়েছিলেন এবং এখন বিষয়টি মিটমাট করতে প্রস্তুত। তবে আদালত এই যুক্তি নাকচ করে দেন।
বিচারপতি উল্লেখ করেন, যাদব ২০ থেকে ৩০ বার আদালতে হাজির হয়েছেন। অন্তত পাঁচবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে তিনি নিজেই প্রতিশ্রুতি রক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর পক্ষে একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীও ছিলেন। ফলে এখন ‘ভুল বোঝানো হয়েছিল’—এ দাবি গ্রহণযোগ্য নয় বলে আদালত মন্তব্য করে।
মামলাটি ২০১০ সালের। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে রাজপাল যাদব ৫ কোটি রুপি ঋণ নেন তাঁর প্রযোজিত চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য।
ঋণ পরিশোধের অঙ্গীকার ছিল ৮ কোটি রুপি। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পরিশোধ হয়নি। পরে ৭ কোটি রুপিতে সমঝোতা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সমঝোতার অংশ হিসেবে দেয়া সাতটি চেকই বাউন্স করে, যার জেরে ফৌজদারি মামলা হয়।
অভিযোগকারী পক্ষ আদালতে যুক্তি দেয়, পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে একই আইনজীবী যাদবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং আদালতের সামনে একাধিকবার অঙ্গীকার করেছেন। ফলে অজ্ঞতার দাবি টেকে না।
বিচারক বলেন, ব্যক্তিগতভাবে সহানুভূতি থাকতে পারে, কিন্তু আইনের নীতি উপেক্ষা করা যায় না। জামিন আবেদন আপাতত মুলতবি রাখা হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষকে নোটিশ দিয়ে আগামী সোমবার আবার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও