প্রভাত রিপোর্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে ফলের শিকার হয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। এমনকি নিজেদের দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুরেও তাদের ভোটে ধস নেমেছে। বৃহস্পতিবারের (১২ ফেব্রুয়ারি) লড়াইয়ে একটি আসনও পায়নি দলটি।
রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শীর্ষ নেতাদের অসহযোগিতা, সাংগঠনিক দুর্বলতা, স্বৈরাচারের দোসরের তকমাসহ নানা কারণে সংসদ নির্বাচনে জাপার ভরাডুবি ঘটেছে। যার জেরে রংপুরে এবার তাদের ঝুড়ি শূন্য। জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই জামায়াতে ইসলামী জয়ী হয়েছে। অপর আসনটি পেয়েছে জামায়াতের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
দলের ভরাডুবির পাশাপাশি শীর্ষ দুই নেতা জি এম কাদের ও শামীম হায়দার পাটোয়ারীও ভোটের লড়াইয়ে টিকতে পারেননি। জাপা চেয়ারম্যান কাদের রংপুর-৩ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনে তৃতীয় হয়েছেন। একইভাবে মহাসচিব শামীম গাইবান্ধা-১ আসনে তৃতীয় হয়েছেন।
নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে জাপা জিতেছিল যথাক্রমে ২৭ ও ৩৪টি আসন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলটির ২৩ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর দ্বাদশ সংসদে ১১ আসনে জয় পায় জাপা।
এবার যদিও দলটির এই ফলাফলকে অস্বাভাবিক বলার তেমন সুযোগ মিলছে না। কারণ নির্বাচনে ২০০ আসনে জাপা প্রার্থী দিলেও ভোটের আগ মুহূর্তে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, বগুড়া-২ আসনসহ একাধিক জায়গায় প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। বেশির ভাগ আসনেই প্রার্থীদের নির্বাচনি জনসংযোগ করতে দেখা যায়নি। অনেক স্থানে দলের নেতাকর্মীরা দলছুট হয়ে যোগ দিয়েছেন বিএনপিতে। এছাড়া, নির্বাচন উপলক্ষে জাপার সমাবেশ হয়নি, দলটি দেয়নি কোনো ইশতেহার। এসব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে- দলটি কি কেবল নিয়ম রক্ষার্থেই ভোটে অংশ নিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভোটের মাঠে প্রার্থীদের অনুপস্থিতি, নির্বাচনে না জিততে চাওয়ার মনোভাব, আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতা, গণভোটে ‘না’ ভোটের প্রচারসহ নানা কারণে জাতীয় পার্টির এমন ভরাডুবি। এ বিষয়ে জাপার শীর্ষ নেতাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভোটের আগের দিন জাপা চেয়ারম্যান বলেছিলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। জাপা দীর্ঘদিন ধরে নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে, এখনো হচ্ছে। বিভিন্নভাবে দলটিকে দুর্বল করা হয়েছে। বল প্রয়োগ, মামলা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি, জেল-জুলুম আর দলের মধ্যে ভাগ সৃষ্টি করে তা করা হয়েছে। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ কৌশলে তাদের দুর্বল করেছে।