• রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:২৯ অপরাহ্ন

টম ক্রুজ- ব্র্যাড পিটের লড়াই! এআই ভিডিও নিয়ে বিতর্কের ঝড়

প্রভাত রিপোর্ট / ৪ বার
আপডেট : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রভাত বিনোদন : হলিউডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে যে অস্বস্তি দীর্ঘদিন ধরে জমছিল, সেটি এবার যেন হঠাৎ করেই বিস্ফোরিত হলো। মাত্র ১৫ সেকেন্ডের একটি ভাইরাল ভিডিও—যেখানে দেখা যাচ্ছে টম ক্রুজ ও ব্র্যাড পিট ছাদের ওপর একে অপরের সঙ্গে লড়ছেন—শুধু দর্শককেই চমকে দেয়নি, বরং পুরো চলচ্চিত্রশিল্পে নতুন আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, ভিডিওটি বাস্তব নয়; এটি তৈরি হয়েছে এআই দিয়ে!
ভিডিওটি প্রকাশ করেন আইরিশ নির্মাতা রুয়াইরি রবিনসন, যিনি জানান এটি তৈরি হয়েছে সিড্যান্স ২.০ নামের একটি এআই মডেলের মাধ্যমে, যার মালিক চীনা প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বহু মানুষ প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করেন—এআই কত দ্রুত বাস্তবের মতো ভিজ্যুয়াল তৈরি করতে সক্ষম হয়ে উঠেছে।
এই ভাইরাল ক্লিপ দেখে সবচেয়ে আলোচিত প্রতিক্রিয়া আসে চিত্রনাট্যকার রেট রিজের কাছ থেকে। ‘ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন’–এর এই সহ-লেখক সোজাসাপ্টা ভাষায় বলেন, ‘সম্ভবত আমাদের জন্য খেলা শেষ হয়ে যাচ্ছে।’ তাঁর আশঙ্কা, খুব অল্প সময়ের মধ্যে একজন মানুষ নিজের কম্পিউটার থেকে বসেই এমন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৈরি করতে পারবে, যা বর্তমান হলিউডের নির্মাণশৈলীর সঙ্গে পার্থক্য করা যাবে না।
তবে তিনি এআই নিয়ে উচ্ছ্বসিত নন; বরং ভয় পাচ্ছেন। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তি একদিকে সৃষ্টিশীল স্বাধীনতার নতুন দরজা খুললেও অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক মানুষের চাকরি হুমকির মুখে ফেলবে। লেখক, সম্পাদক, বিশ্লেষক—সবাই ধীরে ধীরে এমন বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে, যেখানে এআই নিজেই কনটেন্ট তৈরি করবে, আবার সেটির মূল্যায়নও করবে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে হলিউডের বড় সংগঠনগুলোও। মোশন পিকচার অ্যাসোসিয়েশন বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বলেছে, অনুমতি ছাড়া তারকাদের চেহারা ও কনটেন্ট ব্যবহার করা যুক্তরাষ্ট্রের সৃজনশীল শিল্পের জন্য বড় হুমকি। একইভাবে অভিনেতাদের ইউনিয়ন স্যাগ–আফট্রা কঠোর বিবৃতি দিয়ে বলেছে—তারকাদের কণ্ঠ ও চেহারা বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা নৈতিকতা ও সম্মতির মৌলিক নিয়ম ভেঙে দিচ্ছে।
এই বিতর্ক আসলে নতুন নয়, কিন্তু এবার পার্থক্য হলো প্রযুক্তির গতি। কয়েক বছর আগেও এআই ভিডিওগুলো কৃত্রিম বা হাস্যকর লাগত, কিন্তু এখনকার ফলাফল এতটাই বাস্তব যে অনেকেই বুঝতেই পারছেন না কোনটি সত্য আর কোনটি কৃত্রিম। প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলছেন, মাত্র ছয় মাস আগের মডেলগুলোর সঙ্গে বর্তমান এআই-এর মান তুলনাই করা যায় না।
ফলে প্রশ্ন উঠছে—হলিউড কি এক নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে? একদিকে তরুণ নির্মাতারা কম খরচে বড় স্বপ্ন দেখার সুযোগ পাবে। আরেক দিকে, বড় স্টুডিওর ঐতিহ্যবাহী কাঠামো ভেঙে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। রিট রিজের ভাষায়, হয়তো ভবিষ্যতে ‘নতুন ক্রিস্টোফার নোলানরা’ আর বড় স্টুডিওর দরজায় কড়া নাড়বেন না; বরং নিজেদের ঘরে বসেই সিনেমা বানিয়ে ফেলবেন।
এই পরিবর্তনকে কেউ দেখছেন বিপ্লব হিসেবে, কেউ দেখছেন ধ্বংসের শুরু হিসেবে। কিন্তু এতটুকু স্পষ্ট—এআই এখন আর কেবল সহায়ক প্রযুক্তি নয়; এটি সরাসরি সৃজনশীল জগতের ভেতরে প্রবেশ করেছে। আর সেই প্রবেশের অভিঘাত থেকে হলিউডকে সহজে বেরিয়ে আসতে হবে বলে মনে হচ্ছে না।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সরল যখন একটি ১৫ সেকেন্ডের এআই ভিডিও এত আলোচনা তৈরি করতে পারে, তখন পুরো একটি এআই নির্মিত চলচ্চিত্র আসলে কবে দরজায় কড়া নাড়বে?

হলিউড রিপোর্টার অবলম্বনে


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও