প্রভাত স্পোর্টস : লিগের দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব স্যালফোর্ড সিটিকে গত মৌসুমে ৮ গোল দিয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। শনিবার রাতে সেই দলের বিপক্ষে সহজ জয় পেলেও তারা খুশি করতে পারেনি কোচ পেপ গার্দিওলাকে। ২-০ গোলে জিতে এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডে সিটি। প্রিমিয়ার লিগের আরেক জায়ান্ট লিভারপুল ৩-০ গোলে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ আলবিয়নকে হারিয়েছে।
ম্যানসিটিকে এদিন এগিয়ে যেতে আত্মঘাতী গোলের সুবিধা নিতে হয়েছে। বক্সের বাঁ দিক থেকে রায়ান আইত নৌরির নিচু ক্রস আলফি ডোরিংটন বিপদমুক্ত করতে পারেননি। নিজের জালে বল জড়িয়ে দেন। ষষ্ঠ মিনিটে গোল খেয়ে স্যালফোর্ড গত মৌসুমের দুঃস্বপ্ন ফিরিয়ে আনতে বসেছিল।
কিন্তু দীর্ঘসময় ম্যানসিটিকে আটকে রেখে হতাশ করে দলটি। রাইট ব্যাক হিসেবে ম্যাচ শুরু করা ম্যাক্স আলেইনকে ২২ মিনিটে হারিয়ে বড় ধাক্কা খায় সিটি। জশ অস্টারফিল্ডের সঙ্গে সংঘর্ষে ইনজুরিতে পড়েন তিনি।
সিটি আক্রমণ চালিয়ে যায় এবং ওমর মারমৌশ জাল খুঁজে পেলেও অফসাইডে গোল বাতিল হয়। প্রথমার্ধের শেষ দিকে স্যালফোর্ড কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে স্বাগতিকদের মনোবলে ধাক্কা দিতে পেরেছিল। উডবার্ন বক্সের প্রান্ত থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন। তার শট রুখে দেন সিটি কিপার জেমস ট্র্যাফোর্ড। ব্র্যান্ডন কুপার অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে বল মারেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ফিল ফডেনের একটি শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় রুখে দেন। সিটিজেনদের আক্রমণ নিষ্ক্রিয় রেখে সালফোর্ড ম্যাচে টিকে থাকে। কেলি এনমাইয়ের একটি নিচু বিপজ্জনক ক্রস জন স্টোন্স ক্লিয়ার না করলে সমতা ফেরাতে পারতো অতিথিরা।
সেমেনিও নিকো ও’রেলিকে পাঠিয়ে আক্রমণভাগ নতুন করে সাজান গার্দিওলা। স্টোন্সের বদলে মাঠে নামেন গুয়েহি। খেলা শেষ হওয়ার ৯ মিনিট আগে ক্লাবের জার্সিতে তার প্রথম গোলে স্যালফোর্ডের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা শেষ করে দেন তিনি। ফ্রি কিক থেকে সতীর্থের সঙ্গে বল দেওয়ানেওয়া করে রায়ান শেরকি গোলমুখে শট নেন। স্যালফোর্ড কিপার ম্যাট ইয়াং বল ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু গুয়েহি বল পেয়ে যান এবং ফিরতি শটে জাল কাঁপান। পরে সেমেনিয়োর ড্রাইভ পোস্টে লাগলে আর ব্যবধান বাড়েনি।
দলের পারফরম্যান্স নিয়ে গার্দিওলা শিষ্যদের কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন। দল জিতলেও খেলার ধরন নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘না, আমি সন্তুষ্ট নই। প্রতিপক্ষ কোথায় জায়গা ছেড়েছিল, সেটা আমরা পড়তে পারিনি। আক্রমণে উঠে আপনি কতটুকু জায়গা পাবেন, তা নির্ভর করে প্রতিপক্ষ কীভাবে রক্ষণ সামলাচ্ছে তার ওপর— আর আমরা আজ সেটা বুঝতেই পারিনি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আর এই কারণেই খেলাটা এত বিরক্তিকর ছিল। একমাত্র ভালো খবর হলো আমরা পরের রাউন্ডে যেতে পেরেছি। এর বাইরে আর কিছুই বলার নেই।’
এদিকে এক বছরেরও বেশি সময় পর কুর্টিস জোন্সের প্রথম গোলে লিভারপুল পরের রাউন্ডে উঠে গেছে। অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা এই খেলোয়াড় ৫৭ ম্যাচের গোলখরা কাটালেন। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর লিস্টারের বিপক্ষে তার আগের গোল ছিল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন তিনি।
আবারো জাদু দেখান ডমিনিক সোবোসলাই। আট ম্যাচে পঞ্চম গোল করলেন তিনি। চলতি মৌসুমে তার গোলসংখ্যা দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাল। পরে মোহামেদ সালাহর পেনাল্টি থেকে তৃতীয় গোল পায় লিভারপুল। ১ নভেম্বরের পর ক্লাবের জার্সিতে দ্বিতীয় গোল করেন মিশরীয় ফরোয়ার্ড, যা চলতি মৌসুমে তার সপ্তম।