• রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জামায়াত আমিররে বাসায় তারেক রহমান আদালতের নির্দেশ পেলে ভোট পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে: ইসি আনোয়ারুল নির্বাচন-পরবর্তী দুই শতাধিক সহিংসতায় নিহত ৩, আহত তিন শতাধিক: এইচআরএসএস নির্বাচনে অসংগতি ও প্রতিহিংসার অভিযোগে বিক্ষোভের ডাক ১১ দলীয় জোটের মন্ত্রিপরিষদ সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের কারণ জানালেন প্রেস সচিব ধানমন্ডিতে ঢাবি শিক্ষকসহ ৫ জনকে আটকের পর ছেড়ে দিল পুলিশ আমরা সৌভাগ্যবান, যারা সুযোগ পেয়েছিলাম: শেষ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা রমজান মাসে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ নতুন সরকারের স্পিকার হতে পারেন ড. আব্দুল মঈন খান দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় মির্জা ফখরুল

রমজান ঘনিয়ে আসতেই বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

প্রভাত রিপোর্ট / ২ বার
আপডেট : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: রমজান ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর কাঁচাবাজারে ফল, সবজি, খেজুর, ছোলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ভোক্তারা, বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ। ভোক্তাদের আশঙ্কা, অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় রমজান শুরু হওয়ায় পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। এদিকে, ইফতারে শরবত তৈরির অন্যতম প্রধান উপকরণ লেবু এখন বিক্রি হচ্ছে ‘সেঞ্চুরি’ দরে। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কয়েকটি এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বড় লেবুর দাম হালিতে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগেও বড় লেবুর হালি ছিল ৭০-৮০ টাকার মধ্যে, আর মাঝারি লেবুর দাম ছিল ৫০-৬০ টাকা। বর্তমানে মাঝারি লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়।
লালবাগের সবজি ব্যবসায়ী মামুন মিয়া বলেন, “বর্তমানে লেবুর ভরা মৌসুম নয়। গাছে নতুন ফুল এসেছে এবং ছোট ফল ধরছে, ফলে সরবরাহ কমে গেছে। যেসব গাছে সারা বছর কিছু লেবু পাওয়া যায়, সেখানকার ফলই এখন বাজারে আসছে। সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে।”তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন উপলক্ষে গত কয়েক দিন পরিবহন চলাচল সীমিত ছিল, যার প্রভাব বাজারে পড়েছে। দ্রুত নষ্ট হওয়া পণ্য সময়মতো বাজারে না পৌঁছালে সরবরাহ কমে যায়, এতে দাম বেড়ে যায়।” ব্যবসায়ীদের মতে, এটি সাময়িক পরিস্থিতি মৌসুম শুরু হলে দাম আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
নিউমার্কেটে বাজার করতে আসা গৃহিণী শাহিদা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে বলেন, “শুনি অন্যান্য দেশে রমজান আসতে শুরু করলে দাম কমে যায়, কিন্তু বাংলাদেশে তার উল্টো চিত্র দেখা যায়। দুই দিন গাড়ি একটু কম চলছে দেখেই দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা সুযোগ খোঁজে কখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যাতে দাম বাড়াতে পারে।”
এদিকে শীতের শেষ মৌসুমে অধিকাংশ সবজির দাম বেড়েছে। পেঁপে আগে ২৫ টাকা থাকলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। করলা ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে। ঢেঁড়স ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। গোল বেগুন ৮০ টাকা এবং শসা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমজানে জনপ্রিয় ইফতারি ‘বেগুনি’ তৈরিতে ব্যবহৃত লম্বা বেগুনের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে এখন ৬০ টাকা, যা আগে ছিল ৫০ টাকা। অন্যদিকে লাউয়ের দাম কমে ৬০ টাকা থেকে ৫০ টাকায় নেমেছে। টমেটোও ৬০ টাকা থেকে কমে এখন ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৩০ টাকা এবং শিম ৪০-৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বেড়েছে গরুর মাংস ও মুরগির দাম। কিছুদিন আগেও সোনালী মুরগি ৩৩০ টাকা থাকলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা কেজি দরে। গরুর মাংস ৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের মধ্যে রুই, শিং, কই ও পাবদা মাছের দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। তবে অন্যান্য মাছের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
বেড়েছে খেসারির ডালের দাম। আগে ৮৫–৯০ টাকা থাকলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। তবে অন্যান্য ডালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। মুগ ডাল ১৫৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১৬০ টাকা এবং ছোলা ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে চিনি ১০০ টাকা, বেসন ৮০ টাকা এবং শুকনা মরিচ ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ইসবগুলের ভুষি ১০০ গ্রাম ১৫০ টাকা এবং ডাবলি বুট ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পোলাওয়ের চালের দামও বেড়েছে। আগে ১৩৫ টাকা থাকলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। তবে অন্যান্য চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। মিনিকেট চাল ৮০ টাকা, আটাশ চাল ৬০ টাকা এবং পায়জাম চাল ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্যতেলের মধ্যে খোলা সয়াবিন তেল ২০০ টাকা এবং খোলা সরিষার তেল ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ধরনভেদে খেজুরের দাম প্রতি কেজি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রমজানে খেজুরের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে এটি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। এ কারণে গত ডিসেম্বর খেজুর আমদানির শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। এতে আমদানি বাড়বে এবং দাম কমবে বলে আশা করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে বাজারে দাম উল্টো বেড়েছে, যা ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে জাহিদী খেজুর, যার দাম কেজিতে ২৮০ টাকা; এক সপ্তাহ আগেও এটি ছিল প্রায় ২৫০ টাকা। অন্যান্য খেজুরের মধ্যে বড়ই ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, দাবাস ৫০০ টাকা, কালমি ৭০০ টাকা, সুক্কারি ৮০০ টাকা, মাবরুম ৮৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মরিয়ম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং মেডজুল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খেজুরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে দাবাস ও কালমি জাতের। দাবাসের দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে ৪৫০ ৫০০ টাকা হয়েছে এবং কালমি ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রমজান শুরুর কয়েক দিন বাকি থাকতেই নানা অজুহাতে বিভিন্ন ফলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের ফলের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্বাচন ও রমজানকে ঘিরে চাহিদা বাড়ায় ফলের দাম বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আপেল বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকা, কমলা ২৪০ থেকে ৩৫০ টাকা, মাল্টা ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, সাদা আঙুর ৫২০ থেকে ৫৫০ টাকা, কালো আঙুর ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং আনার ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে স্থান ও আকারভেদে দামের পার্থক্য দেখা গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও