• রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জামায়াত আমিররে বাসায় তারেক রহমান আদালতের নির্দেশ পেলে ভোট পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে: ইসি আনোয়ারুল নির্বাচন-পরবর্তী দুই শতাধিক সহিংসতায় নিহত ৩, আহত তিন শতাধিক: এইচআরএসএস নির্বাচনে অসংগতি ও প্রতিহিংসার অভিযোগে বিক্ষোভের ডাক ১১ দলীয় জোটের মন্ত্রিপরিষদ সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের কারণ জানালেন প্রেস সচিব ধানমন্ডিতে ঢাবি শিক্ষকসহ ৫ জনকে আটকের পর ছেড়ে দিল পুলিশ আমরা সৌভাগ্যবান, যারা সুযোগ পেয়েছিলাম: শেষ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা রমজান মাসে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ নতুন সরকারের স্পিকার হতে পারেন ড. আব্দুল মঈন খান দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় মির্জা ফখরুল

আগামী মঙ্গলবার শপথ পাঠ করাবেন সিইসি, থাকছে কঠোর নিরাপত্তা

প্রভাত রিপোর্ট / ৩ বার
আপডেট : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ আগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্যদের শপথ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বিএনপির সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। সাধারণত মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হওয়ার রেওয়াজ। এর আগে শুক্রবার রাতে নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের (এমপি) গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এমপিদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। আর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবে। এর পর সংসদীয় দলের নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। রাষ্ট্রপতি তখন তাকে নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন।
সংবিধানের ১৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদায়ী স্পিকার নতুন এমপিদের শপথ পাঠ করাবেন। গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, পদত্যাগ করলেও তিনিই স্পিকার হিসেবে শপথ পড়ানোর কথা। বিগত সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে আছেন। তিনি এখনও পদত্যাগ করেননি। সংবিধানের ১৪৮ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্পিকারের মনোনীত কোনো ব্যক্তির কাছেও এমপিরা শপথ নিতে পারবেন। ১৪৮ (২ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে যদি স্পিকার বা তার মনোনীত ব্যক্তি সংসদ সদস্যদের শপথ না পড়ান, তাহলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন। এই বাস্তবতায় নির্বাচিত এমপিদের গেজেট প্রকাশের তিন দিন পর আগামী মঙ্গলবার শপথ পড়াবেন সিইসি।
দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে নতুন সরকারের শপথ বঙ্গভবনের বাইরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। আইন মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত আমন্ত্রণ পাওয়া দেশের তালিকায় রয়েছে ভারত, চীন, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান, তুরস্ক ও ব্রুনেই। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, নতুন সরকারের মন্ত্রীদের শপথের জন্য তারা প্রস্তুতি নিয়েছেন। নতুন মন্ত্রীদের জন্য গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মন্ত্রীদের বাসভবন প্রস্তুত রাখছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের স্বাগত জানাতে জাতীয় সংসদ ভবনকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানসহ অধিবেশনের প্রস্তুতির কাজ চলছে। শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তাব্যরবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। এরপর বিকালে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভাও সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবে।
সংসদ ভবন সূত্র জানিয়েছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য জাতীয় সংসদ ভবন নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। ভবনের অভ্যন্তরে ধোয়া-মোছার কাজ চলছে এবং সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। সংসদের বাইরে সদস্যদের বরাদ্দ করা কক্ষগুলো সাজানোর কাজও চলছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে। নির্বাচনের দুদিন পর শনিবার থেকে সেখানে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা গণমাধ্যমকে বলেন, দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্যদের এবং বিকালে নতুন সরকারের শপথের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই স্থানে বিকাল ৪টায় শপথ নেবে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংসদ ভবন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেখানকার পরিস্থিতি সাধারণ দিনের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে। সংসদ ভবনের সামনে আগের মতোই রয়েছে ফুচকা ও চটপটিসহ নানা দোকান। সড়কও রয়েছে স্বাভাবিক। চলছে নানা যানবাহন। সংসদ ভবনে প্রবেশের গেটটি বন্ধ রয়েছে। ফটকে দায়িত্ব পালন করছেন আনসার ও পুলিশ সদস্যরা। প্রধান সড়ক থেকে সংসদের মূল ভবনের সামনে লোকজনকে কাজ করতে দেখা গেছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যান চালচাল নিয়ন্ত্রণ করা হলে তা আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া হবে। সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান রয়েছে। শুক্রবার রাতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টিতে জয়ীদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে তাদের এক সময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট ৭৭টি আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও